,
সংবাদ শিরোনাম :
» « ঠাকুরগাঁও জেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি মকবুল হোসেন বাবুর ইন্তেকাল» « পঞ্চগড়ের রাবার ড্যামটি অকার্যকর হওয়ায় এলাকা প্লাবিত» « পঞ্চগড়ে চা চারা চুরির অভিযোগে মামলা» « এরশাদের মৃত্যুতে রেলপথ মন্ত্রীর গভীর শোক প্রকাশ» « সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন পঞ্চগড়ে প্রবল বর্ষণ ও ঝড়ো হাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতি» « খুলনার দাকোপের লাউডোবে রুপান্তরের আয়োজন কিশোর- কিশোরীদের সু-স্বাস্থ্য সুরক্ষিত পরিবেশ প্রতিষ্ঠা বিষয়ক ক্যাম্পাইন অনুষ্ঠিত» « সারাদেশে অব্যাহত সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিবাদে সোনাগাজী রিপোর্টার্স ইউনিটির মানববন্ধন» « ঠাকুরগাঁও গড়েয়ায় জুয়ার আসর আগুনে পুড়িয়ে দিল ওসি আশিকুর রহমান» « সাংবাদিক রাসেদুল ইসলাম রাসেল নিখোঁজ» « সোনাগাজীর ছাড়াইতকান্দি হোসাইনিয়া দাখিল মাদ্রাসার নবনির্মিত ভবনের শুভ উদ্বোধন করেন- মাসুদ চৌধুরী এমপি

প্রসঙ্গঃ একই শ্রেনিতে বয়সের ব্যবধান -অ্যাডভোকেট আবু মহী উদ্দীন

১২ মে ২০১৯ প্রকাশিত সাপ্তাহিক সংগ্রামী বাংলায়‘একই শ্রেনিতে বয়সের ব্যবধান  তৈরি হচ্ছে নুতন সংকট’ শিরোনামে একটি সংবাদ ছাপানো হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদে কেবলমাত্র ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। সমস্যাটা রয়েছে আরো গভীরে। শিক্ষা  বিজ্ঞান , শিশূদের বয়স ও ধারণক্ষমতা বিবেচনা করে শিক্ষার  সিলেবাস প্রনয়ন এবং পাঠ্যক্রম ও পাঠ্য বই প্রনয়ন করে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তির পর সমস্যাটার শুরু হয়। সরকারি স্কুলে ৩য় শ্রেনিতে ভর্তির আগেই শিক্ষার্থীরা  মুলত ৩য় শ্রেনির সব লেখাপড়া শেষ করে এবং এদের মধ্যে অধিকাংশই জেদ্দা ফেরত হয়। অর্থাৎ সরকারি স্কুলে ভর্তির স্বার্থে একাধিকবার ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। ওদিকে স্কুলে না গিয়ে কোচিং করে সারা বছর।  প্রাথমিক বিদ্যালয় বা কিন্ডার গার্টেন বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেণির ছাত্র হাজিরা পরীক্ষা করে দেখলে চমকপ্রদ তথ্য পাওয়া যাবে। সেসব প্রতিষ্ঠানে ২য় শ্রেনিতে কোন ক্লাশ হয়না। কেননা সেই ক্লাশে কোন শিক্ষার্থী  থাকেনা। সরকারী বিদ্যালয়ে ৩য় শ্রেনিতে ভর্তির পর যখন ক্লাশ শুরু হয় তখন যারা বেশী বয়স্ক তারা অনেকটা ইচড়ে পাকা টাইপের হয়। যেহেতু একাধিকবার ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়েছে সে কারনে সেই ছাত্রের কাছে ৩য় শ্রেনির পড়াশোনা কোন আকর্ষন সৃষ্টি করতে পারেনা। আবার যারা অল্প বয়স্ক ভর্তি হয় তারা তা ঠিকমতো ধারণ করতে পারেনা। তাদের উপর চাপ সৃষ্টি হয়।  ফলে একটা অসম অবস্থা সৃষ্টি হয়।
জীবনের শুরুতেই হাফেজ সাহেবরা প্রতারণার সাথে জড়িয়ে পড়তে বাধ্য হচ্ছে। যেহেতু সেই হাফেজ সাহেব পড়াশোনা করতে চায় , এবং স্কুলে ভর্তি হতে হচ্ছে নির্ধারিত বয়সের মধ্যে। সুতরাং উপায় কী। ব্যবস্থাটা বাধ্য করে তাকে প্রতারণা শিখতে। বিষয়টা নিয়েতো শিক্ষা বিভাগকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
বেশী বয়স্করা ইচড়ে পাকা হয় আবার গায়ে গতরেও তারা বড় হয়। তারা ক্লাশের জন্য শারীরিক এবং মানষিক ২ দিক দিয়েই সমস্যা। বেশী বয়স্করা শ্রেনি শৃংখলারও সমস্যা সৃষ্টি করে। এবিষয়গুলো শিক্ষা বিভাগ জানেনা তা নয়। শিক্ষা বিভাগের যারা এসব বিষয় নিয়ে ভাববেন বা ভাবার দায়িত্বপ্রাপ্ত তাদের ছেলেমেয়েরাতো এই সব স্কুলে পড়েনা। প্রাথমিক শিক্ষার কর্মকর্তা এবং প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের শিক্ষায়  যারা আছেন তাদের সবার ছেলেমেয়েরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়েনা।
এটা সম্ভব হচ্ছে জন্মনিবন্ধন পদ্ধতির দুর্বলতার জন্য। এই জন্মনিবন্ধনের আইন প্রনয়ন , কর্মকর্তা , জনপ্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণ বাবদ মোট কত অর্থ সরকার ব্যায় করেছে সে হিসাবতো সাধারণ মানুষ চাইতেই পারে। এই অর্থ ব্যায়ে সাধারণ মানুষের কোন আপত্তি নাই। আপত্তি হলো কার্যকরী না হওয়া। অনলাইন জন্মনিবন্ধন কার্যকরী করতে সমস্যা কোথায় ? বরং জন্মনিবন্ধন পদ্ধতি বিজ্ঞান সম্মত এবং কড়াকড়িভাবে কার্যকরী করতে পারলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি , চাকুরীতে প্রকৃত বয়সে যোগদান , খেলাধুলার এজ গ্রুপ নির্ধারণ , প্রতিভা অন্বেষনে  যথাযথ মুল্যায়ন সর্বোপরি বাল্য বিবাহ ঠেকাতে সরকারি টাকা খরচ করে প্রচারনা , খবর পেলে সকল সরকারি কাজ বাদ দিয়ে  উপজেলা নির্বাহী অফিসার বা পুলিশের বিয়ে বাড়িতে গিয়ে বিয়ে ভেঙ্গে দেওয়া এসব কিছুই করতে হবেনা। কাজী সাহেবরাও দুণীতি করার সুযোগ পাবেনা বা চাপেও পড়তে হবেনা। আমরা শুধু বুঝিনা অনলাইন জন্মনিবন্ধন কড়াকড়িভাবে প্রয়োগে সমস্যা কোথায়।
সমস্যা শুধু সরকারি স্কুলেই আছে তা নয়। বয়সের সমস্যা মাদরাসায় আরো জটিল অবস্থায় আছে। মাদরাসায় হাফেজ সাহেবরা লেখাপড়া করেন। খুব সাধারণ হিসাব ৯/১০ বছরে শিক্ষার্থীরা হাফেজ হওয়ার জন্য মাদরাসায় আসে। মোটামুভিাবে ৪/৫ বছর লাগে হাফেজ হতে। এর পর এরা আবার সাধারণ লাইনে ভর্তি হয়। এরা দাখিল পাশ করে কলেজে বা আলেম শ্রেনিতে ভতি হয়। সাধারণ  লাইনে বা মাদরাসা লাইনে পড়তে তাদেরকেতো  ৫ম শ্রেনিতে ভর্তি হতে হয়। ৫ম শ্রেনিতে ভর্তির সময় তাদের বয়স ৯/১০ বছর দেখানো হয়। দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের  শরীর চেহারা দেখলেই বিষয়টি নজর এড়াতে পারবেনা। রীতিমতো বয়স্ক মানুষরাই দাখিল পরীক্ষা  দেয়। বেশী বয়সে চাকুরীতে ঢোকার জন্য তারা সময় পায় আবার রিটায়ারমেন্টের নির্ধারিত বয়সের কমপক্ষে ১০ বছর পরে তারা রিটায়ার করে। তারা বেশী আর্থিক সুবিধা ভোগ করে। দেশের মাদরাসাসমুহে একটু খোজ নিলে দেখা যাবে দেখতে খুব বেশী বয়সী হলেও কাগজে কলমে হিসাবের মধ্যেই আছেন।
মাদরাসা শিক্ষায়  আর একটি সমস্যা রয়েছে। তা হলো একই সঙ্গে মাদরাসা ও জেনারেল লাইনে পড়া। একজন ছাত্র অবলীলাক্রমে একই সঙ্গে মাদরাসা এবং জেনারেল লাইনে পড়াশোনা করতে পারে। আইনে অনুমোদন না করলেও বিষয়টি বেশ চালু আছে।
দৈনিক সমকালে ১৫ মে ২০১৯ খবর বেরিয়েছে,  বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার বগুড়া নাটোর মহাসড়কের পাশে ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত নুন্দহ ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান ২২ বছর ধরে অবৈধ ভাবে চাকুরী করে সরকারের ৪৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তিনি ঐ মাদরাসা থেকে ১৯৯১ সালে ফাজিল পাশ করেন। আবার একই অর্থ বছরে তিনি সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে নিয়মিত ছাত্র হিসাবে রাষ্টবজ্ঞিানে ২য় শ্রেনিতে অনার্স পাশ করেন।
১৯৯৭ সালে মোস্তাফিজুর রহমান নুন্দহ মাদরসায় রাস্ট্রবিজ্ঞানের নিয়োগে ফাজিল পাশের সনদ গোপন করে অনার্স পাশের সনদ দেখিয়ে ১৫ মার্চে যোগদান করেন। এরপর ২০১২ সালে এপ্রিলে উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিলে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সনদ গোপন করে ফাজিল পাশের সনদ দিয়ে উপাধ্যক্ষ হিসাবে নিয়োগপ্রাপ্ত  হন। এনিয়ে অনেক পানি গড়িয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে অভিযোগ , তদন্ত সবই হয়েছে । এতে একই শিক্ষাবর্ষে মাদরাসা শিক্ষাবর্ষে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে ফাজিল এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের , শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা বিভাগের পরিচালকের দপ্তরে অভিযোগ দেন। এতে একই শিক্ষা বর্ষে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে ফাজিল এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিএস এস অনার্স পাশের সত্যতা যাচাই করে মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়।
এর পর তার বিএসএস সনদ বাতিল করা হয়। অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা বিভাগের তদন্তেও তার জালিযাতি প্রমানিত হয়। ২০১৫ সালের ২৭ এপ্রিল প্রকাশিত সেই তদন্ত প্রতিবেদনে ওই মাদরাসায়  প্রভাষক এবং  উপাধ্যক্ষ দুটি পদের কোনোটিতেই মোস্তাফিজুর রহমানের নিয়োগ বৈধ নয় বলে মত দেওয়া হয়। তার পরও তিনি উপাধ্যক্ষ হিসাবে বেতন ভাতা উত্তোলন করেছেন এবং একই সঙ্গে অধ্যক্ষ পদ শুন্য থাকায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেছেন।
এমন পরিস্থিতিতে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ২০১৬ সালের ১২ জানুয়ারি নন্দীগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে  চিঠি দেওয়ার পরও কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিষয়টি ২০১৯ এ এসে দুদক পর্যন্ত গড়িয়েছে। মোস্তাফিজুর রহমান যথারীতি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বেআইনীভাবে তার সনদ বাতিল করেছে বলে মন্তব্য করে তিনি আদলতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
নুন্দহ  মাদরাসার অধ্যক্ষের সমস্যা হয়তো ৭/৮ বছরে আদালতের মাধ্যমে সমাধান হবে। কিন্তু মাদরাসার শিক্ষার্থীদের কি হবে। নুন্দহ মাদরসার মতো আরো অনেক শিক্ষা  প্রতিষ্ঠানে এই জাতীয় সমস্যা থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাবেনা। দেশের এতো বিষয় ডাটাবেজ করা যাচ্ছে  , শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সনদপত্র ডাটাবেজ করা যাবেনা তা ভাবার কোন কারণ নাই। শিক্ষা বিভাগের কিছু কর্মচারী এই জাতীয় কর্মকান্ডের  সাথে জড়িত না হলে এই জাতীয় নিয়োগ কি করে ঘটতে  পারে তা সাধারণ মানুষ বোঝেনা। আর দেশের এই ডিজিটাল যুগে দেশের সকল শিক্ষার্থীদের একই রেজিষ্ট্রেশন পদ্ধতির আওতায় আনলে দেশের শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী সংখ্যার জালিয়াতি বা জটিলতা কমে গিয়ে শুন্যের কোটায় আসবে সে ধারণা করা যায়। অর্থাৎ এক শিক্ষার্থীর একটি রেজিষ্ট্রেশন নং থাকবে। দেশের ১৮ উর্ধ সকল মানুষকে নির্বাচন কমিশন যদি একক আই ডি নং দিয়ে তালিকাভুক্ত করতে পারে তাহলে জাতির বৃহত্তর স্বার্থে শিক্ষার্থীদের জন্য একক রেজিষ্ট্রেশন নং এর আওতায় আনতে পারলে জাতি খুবই উপকৃত হবে এজন্য ২/৪ শ কোটি টাকা খরচ অনুমোদন দিতে জাতি কুন্ঠিত হবেনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com