,
সংবাদ শিরোনাম :
» « ঠাকুরগাঁও জেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি মকবুল হোসেন বাবুর ইন্তেকাল» « পঞ্চগড়ের রাবার ড্যামটি অকার্যকর হওয়ায় এলাকা প্লাবিত» « পঞ্চগড়ে চা চারা চুরির অভিযোগে মামলা» « এরশাদের মৃত্যুতে রেলপথ মন্ত্রীর গভীর শোক প্রকাশ» « সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন পঞ্চগড়ে প্রবল বর্ষণ ও ঝড়ো হাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতি» « খুলনার দাকোপের লাউডোবে রুপান্তরের আয়োজন কিশোর- কিশোরীদের সু-স্বাস্থ্য সুরক্ষিত পরিবেশ প্রতিষ্ঠা বিষয়ক ক্যাম্পাইন অনুষ্ঠিত» « সারাদেশে অব্যাহত সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিবাদে সোনাগাজী রিপোর্টার্স ইউনিটির মানববন্ধন» « ঠাকুরগাঁও গড়েয়ায় জুয়ার আসর আগুনে পুড়িয়ে দিল ওসি আশিকুর রহমান» « সাংবাদিক রাসেদুল ইসলাম রাসেল নিখোঁজ» « সোনাগাজীর ছাড়াইতকান্দি হোসাইনিয়া দাখিল মাদ্রাসার নবনির্মিত ভবনের শুভ উদ্বোধন করেন- মাসুদ চৌধুরী এমপি

ছেলে ফারুক আটক নির্যাতিত মায়ের পাশে পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক

পঞ্চগড় প্রতিনিধি\ অবশেষে আশি বছরের সেই বৃদ্ধা মাকে মারপিটের অভিযোগে তার ছোট ছেলে অভিযুক্ত ফারুক হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রোববার বিকেলে জেলা শহরের রৌশনাবাগ এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। শনিবার রাতে নির্যাতিত বৃদ্ধা বাদি হয়ে ছোট ছেলে ফারুক হোসেনে, তার স্ত্রী ইনসানা বেগম এবং নাতি হৃদয়ের বিরুদ্ধে সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন।

এদিকে খবর পেয়ে পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন রোববার দুপুরে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিসাধীন বৃদ্ধা মাকে দেখতে যান। অশ্রæসিক্ত বৃদ্ধা নিজের ছেলে ও বৌমার নির্যাতনের কথা শোনান জেলা প্রশাসককে। এ সময় জেলা প্রশাসক চিকিৎকদের কাছে বৃদ্ধার চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন এবং চিকিৎসার জন্য তাকে ১০ হাজার টাকা নগদ অর্থ সহায়তা দেন। এছাড়া তার ছেলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ সার্বিক সহযোগিতার আশ^াস দেন। জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন বৃদ্ধা মাকে বলেন, ‘আপনার এক ছেলে বের করে দিয়েছেন তো কি হয়েছে, আমরা সবাই আপনার পাশে আছি। এ সময় বৃদ্ধা আবেগে কেঁদে ফেলেন এবং অভিযুক্ত ছেলে ফারুক হোসেনসহ বউমা ইনসানার যথাযথ বিচার দাবি করেন। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এহেতেশাম রেজা, পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. প্রতীক কুমার বণিক উপস্থিত ছিলেন।

স্বামীর ভিটাবাড়ি ছেড়ে অন্য ছেলের বাড়ি না যাওয়ায় শনিবার দুপুরে পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাত কাজলদীঘি ইউনয়িনের গলেহা ফুলপাড়া এলাকায় আশি বছরের বৃদ্ধা মা হাফেজা খাতুনকে তার ছোট ছেলে ফারুক হোসেন (৪০), বৌমা ইনসানা (৩২) এবং নাতি হৃদয় (২১) মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। গুরুতর অসুস্থাবস্থায় বিকেলে বৃদ্ধার মেঝ ছেলে তাকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের বারান্দায় চিকিৎসারত বৃদ্ধা হাফেজা খাতুন জেলা প্রশাসককে জানান, ‘ছোট বউমা ইনসানা তার টয়লেটে যাওয়ার পানির বদনায় মরিচের গুড়া মিশিয়ে রেখেছিল। সামান্য কারণে তার বুকে তিনটি ঘুসি মেরেছে। ছোট ছেলে ফারুকও কদিন আগে তাকে থাপ্পর মেরেছিল। এর আগে নাতি হৃদয় তার কুড়ে ঘরের চালা ভেঙ্গে দেয়। তারা দীর্ঘদিন থেকে আমাকে নির্যাতন করে। আমি তাদের উপযুক্ত বিচার চাই।

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. প্রতীক কুমার বণিক বলেন, ভর্তিও পর থেকেই বৃদ্ধাকে যথাযথ চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে শারীরীক অবস্থার জন্য আশঙ্কার কোন কারণ নেই।মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পঞ্চগড় সদর থানার এসআই মো. শাহিন বলেন, শনিবার রাতেই নির্যাতিত বৃদ্ধা ছেলে এবং বউমাসহ তিন জনের বিরুদ্ধে মারপিটের একটি অভিযোগ দেন। রোববার দুপুরে অভিযুক্ত ছেলে ফারুক হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।প্রসঙ্গত প্রায় ১২ বছর আগে স্বামী হারান আশি বছরের বৃদ্ধা হাফেজা খাতুন। স্বামীর স্মৃতি বুকে নিয়ে তার ভিটাবাড়িতে একাই থাকতেন তিনি। একই বাড়িতে ছোট ছেলে পরিবার নিয়ে বসবাস করলেও বৃদ্ধা মা প্রতিদিনের খাবার খেতেন পাশের আরেক ছেলের বাড়িতে। ৫ ছেলে এবং ৫ মেয়ের জননী হাফেজা খাতুন সকলের বিয়ে দিয়েছেন। অন্য ছেলে এবং মেয়েরা মাকে তাদের বাড়ি নিতে চাইলেও স্বামীর ভিটা ছেড়ে যেতে রাজী হননি তিনি। তিনি ছোট ছেলে ফারুক হোসেনর ঘর ঘেঁষে স্বামীর ভিটায় একটি কুড়ে ঘরে একাই থাকেন। খাওয়া দাওয়া করেন মেঝ ছেলে শফিউল্লাহর বাড়িতে। তবে ছোট ছেলে ও তার স্ত্রী বৃদ্ধার কুড়ে ঘরটি দখলে নিতে দীর্ঘদিন ধরে বৃদ্ধা মাকে মারপিটসহ নানাভাবে নির্যাতন করতেন। শনিবার দুপুরে বৃদ্ধার টয়লেট যাওয়ার রাস্তায় আবর্জনা জড়ো করে রেখে দেন ফারুকের স্ত্রী ইনসানা বেগম। বৃদ্ধা কষ্টে সেই আবর্জনা সরিয়ে দেন। এ নিয়ে বৃদ্ধার সাথে রাগ করে টয়লেটে যাওয়ার সময় ক্ষুব্ধ হয়ে তার হাত থেকে পানিভর্তি বদনা নিয়ে আছরে ভেঙে ফেলেন ফারুকের স্ত্রী ইনসানা। এক পর্যায়ে ছেলে ফারুকের উপস্থিতিতে তার স্ত্রী ইনসানা বৃদ্ধার বুকে কিলঘুষি মারতে থাকেন। পরে বৃদ্ধার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। ছেলে শফিউল্লাহ তাকে উদ্ধার করে শনিবার বিকেলে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com