,
সংবাদ শিরোনাম :
» « ঠাকুরগাঁও জেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি মকবুল হোসেন বাবুর ইন্তেকাল» « পঞ্চগড়ের রাবার ড্যামটি অকার্যকর হওয়ায় এলাকা প্লাবিত» « পঞ্চগড়ে চা চারা চুরির অভিযোগে মামলা» « এরশাদের মৃত্যুতে রেলপথ মন্ত্রীর গভীর শোক প্রকাশ» « সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন পঞ্চগড়ে প্রবল বর্ষণ ও ঝড়ো হাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতি» « খুলনার দাকোপের লাউডোবে রুপান্তরের আয়োজন কিশোর- কিশোরীদের সু-স্বাস্থ্য সুরক্ষিত পরিবেশ প্রতিষ্ঠা বিষয়ক ক্যাম্পাইন অনুষ্ঠিত» « সারাদেশে অব্যাহত সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিবাদে সোনাগাজী রিপোর্টার্স ইউনিটির মানববন্ধন» « ঠাকুরগাঁও গড়েয়ায় জুয়ার আসর আগুনে পুড়িয়ে দিল ওসি আশিকুর রহমান» « সাংবাদিক রাসেদুল ইসলাম রাসেল নিখোঁজ» « সোনাগাজীর ছাড়াইতকান্দি হোসাইনিয়া দাখিল মাদ্রাসার নবনির্মিত ভবনের শুভ উদ্বোধন করেন- মাসুদ চৌধুরী এমপি

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে জ্যোতিষী ও তান্ত্রিক সাধক দাবীদার কে এই সুকুমার!

পঞ্চগড় প্রতিনিধি\ পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাহারে গণনা ও তান্ত্রিকতার নামে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিচ্ছে সুকুমার চন্দ্র রায়। নিজেকে সে জ্যোতিষী ও তান্ত্রিক সাধক দাবি করে। তার খপ্পরে পড়ে নিজের জমানো টাকা খুইয়েছে হাজার হাজার মানুষ। আর এ টাকা দিয়েই কোটিপতি বনে গেছে ভন্ড জ্যোতিষী সুকুমার।

অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রভাবশালীরা তার এ প্রতারণা ব্যবসায় আড়াল থেকে শক্তি জোগাচ্ছে। বছরের পর বছর এভাবে প্রতারণার ব্যবসা চালিয়ে গেলেও প্রশাসনকে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাহার বাজার থেকে কয়েক শ’ গজ ভেতরেই কথিত জ্যোতিষী ও তান্ত্রিক সাধক সুকুমার চন্দ্র রায়ের সুদৃশ্য বাড়ী। বংশপরম্পরায় গণনা ও তান্ত্রিকতার নামে লোকজনকে ঠকিয়ে আসছে তারা।স্থানীয়রা জানায়, ১০ বছর আগেও সুকুমারের বাড়িতে বাঁশের বেড়ার ঘর ছিল। এখন তার ঘরবাড়ি দেখলেই অনুমান করা যায়, প্রতারণার কারবার ভালোই জমে উঠেছে। দূরদূরান্ত থেকে নানা সমস্যা ও জটিল অসুখ নিয়ে যারা আসছে, তাদের অনেককেই জিম্মি করে সে কৌশলে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। প্রতি শনি ও মঙ্গলবার ভাগ্য গণনা এবং সমস্যার সমাধান দিতে বসে সুকুমার। শুরুতে সে রোগীকে মানসিকভাবে দুর্বল করে ফেলে। পরে চিকিৎসা দেয়। তার দর্শন ফি ১১০ টাকা। আর চিকিৎসা ব্যয় হিসেবে পরে জনপ্রতি ৫-৩০ হাজার টাকা নিয়ে থাকে সুকুমার।রোগীদের মগজ ধোলাই করে জটিল রোগ, পারিবারিক এবং দাম্পত্য অশান্তি সহ সব সমস্যার সমাধান দেয় সুকুমার। টাকা পেলে জিন-ভূতের আছরও ছাড়িয়ে দেয় সে।ভন্ড জ্যোতিষী সুকুমারের কোনো কথাই সত্য হয় না বলে অভিযোগ করে অনেক রোগী। কিন্তু সে তার টাকার থলে ঠিকই ভরতে থাকে।সুকুমারের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, দূরদূরান্ত থেকে তার বাড়িতে অনেক মানুষ এসেছে। দূরের ভক্তদের থাকার জন্য আশ্রমও করেছে সে। দুই কক্ষবিশিষ্ট অন্ধকারাচ্ছন্ন একটি ঘরে আগত মানুষের ভাগ্য গণনা করছে সুকুমার। গণমাধ্যমকর্মী পরিচয় পেয়ে সুকুমার চন্দ্র রায় প্রথমে নিজেকে জ্যোতিষী দাবি করে। কিছুক্ষণ পর নিজেকে তান্ত্রিক ও কালীসাধক বলে পরিচয় দেয়। এ সময় সে জানায়, তার দাদা ল²ীকান্ত এ কাজ শুরু করেন। তার বাবা চন্দ্রকান্তও নাকি জ্যোতিষী ছিলেন। অনেক প্রভাবশালী মন্ত্রী-এমপিও নাকি তার ভক্ত। চার-পাঁচজন সেবকও আছে তার।স্থানীয়রা জানায়, সুকুমার তেমন কিছুই জানে না। সংস্কৃত ভাষার লিখিত চাদর পরে গুটিকয়েক মন্ত্র আর সংস্কৃত শ্লোক দিয়ে মানুষের মগজ ধোলাই করে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা-পয়সা। বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে দিনের পর দিন এই কর্মকন্ড চালিয়ে আসছে সে।

পঞ্চগড় জেলা শহরের বাসিন্দা সুফিয়া খাতুন বলেন, ‘আমি আমার নাতনিকে নিয়ে সুকুমারের কাছে গিয়েছিলাম। রোগ সারাতে পারেনি। অথচ রোগ সারানোর নাম করে নানা ছলে আমাদের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ওই ভন্ড।’দেবীগঞ্জের গজপুরী এলাকার মামুন শাহ বলেন, ‘আসলে সুকুমার একজন ভন্ড জ্যোতিষী। সহজসরল মানুষকে ঠকিয়ে কোটি কোটি টাকা আয় করছে সে।’সোনাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজ্জাক দুলাল বলেন, ‘মানুষ অনেক সময় মানসিক অশান্তিতে ভোগে। একটা সময় তা এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। কিন্তু তারা মনে করে, সুকুমারের কাছে গিয়েই ভালো হয়েছে। এটা কুসংস্কার ছাড়া আর কিছুই না।’এ বিষয়ে বিস্তরিত জানতে চাইলে সুকুমার দাম্ভিকতার সঙ্গে বলে, ‘আমি মায়ের সেবক। মায়ের নাম করে মানুষের সেবা করি। বড় বড় মন্ত্রী-এমপি আমার ভক্ত। ভালো হয় বলেই মানুষ আসে। আপনারা যা পারেন করেন। কেউ আমার কিচ্ছু করতে পারবে না।’

পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এহেতেশাম রেজা বলেন, ‘সোনাহারের জ্যোতিষী সুকুমারের প্রতারণার অনেক অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। আমরা বিষয়টি দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে খতিয়ে দেখার জন্য ইতিমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছি। অভিযোগের সত্যতা পেলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com