,
সংবাদ শিরোনাম :

ঠাকুরগাঁওয়ের সাবলম্বী কৃষক মেহেদী আহসানের উৎপাদিত শীতকালিন সবজি যাচ্ছে বিদেশে

আলোরকন্ঠ রিপোর্টঃ ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বড়গাঁও ইউনিয়নের চামেশ্বরী গ্রামের সাবলম্বী কৃষক মেহেদী আহসানের উৎপাদিত শীতকালিন সবজি যাচ্ছে বিদেশেও। সৃষ্টি হয়েছে কর্মসংস্থানেরও। তার এই সফলতা দেখে আশপাশে বেকার যুবকদের অনেকে এখন সবজি চাষে ঝুকছেন।
উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁও এ জেলার ৫টি উপজেলার কৃষকরা প্রতি বছরের মতো এবারো লাউ, বেগুন, করলা, কায়থা, ফুলকপি, বাধাঁকপিসহ আগাম শীতকালিন সবজি আবাদে এখন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউবা জমির পরিচর্যা আবার কেউবা জমি থেকে উৎপাদিত সবজি তুলে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পাইকারদের কাছে বিক্রি করছেন। এ জেলার সবজি কীটনাশকমুক্ত হওয়ায় চাহিদাও অনেক। ফলে আগাম সবজি আবাদ করে কেনা বেচায় লাভবান চাষি ও ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে জমিতে নিয়মিত কাজ পাওয়ায় খুশি শ্রমিকরাও। তবে এ জেলার কৃষকদের মধ্যে ব্যতিক্রম উদ্যোগে আগাম সবজি চাষাবাদ করে সদর উপজেলার চামেশ্বরী গ্রামের কৃষক আহসান কখনো লোকসানের মুখ দেখেন নি। কীটনাশকমুক্ত সবজি উৎপাদনে সবজি ক্ষেতে পোকা দমনে ফাঁদ ব্যবহার, জৈব সার, সময়মত ফসলের যন্ত নেয়ায় অল্প খরচ করে লাভবান হচ্ছেন তিনি। তার এ উৎপাদিত সবজি সংগ্রহে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার পাইকাররা আসছেন প্রতিদিনই। সবজি চাষে বছরের পর বছর লাভের অংক বাড়তে থাকায় আশপাশের কয়েকটি গ্রামের অনেক যুবক এখন সবজি চাষে ঝুকছেন। তবে সরকারিভাবে সল্প সুদে ঋণ সহায়তার দাবি স্থানীয় কৃষকের।
সদর উপজেলার বড়গাঁও ইউনিয়নের চামেশ্বরী গ্রামের কৃষক মোঃ মেহেদী আহসান উল্লাহ্ চৌধুরী জানান, ১২ বছর আগে পরিক্ষামুলকভাবে ৩০ শতক জমিতে সবজি আবাদ শুরু করি। এখন ১০ একর মাটিতে আগাম সবজি আবাদ করছি। কীটনাশকমুক্ত সবজি উৎপাদন ও উৎপাদিত সবজি এজেন্সীর মাধ্যমে বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করায় সারাদেশের ৬জন কৃষকের মধ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও কৃষি মন্ত্রনালয় থেকে আমাকে সনদ ও ক্রেষ্ট্র প্রদান করেছেন। শীতকালিন সময়ে প্রতিদিন শুধু মাত্র আমার জমিতে প্রায় ৬০-৭০ জন শ্রমিক দৈনিক কাজ করেন। আমার এ সফলতা দেখে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বেকার যুবক এখন সবজি আবাদ করছেন। এখন এলাকায় প্রতিদিন প্রায় ৩শ-৪শ শ্রমিক কাজ করছেন। তবে আমি চাই সরকার সল্প সুদে অধিক পরিমানে ঋণ সহয়তা করলে কৃষিতে আরো ভাল ভুমিকা পালন করা সম্ভব হবে।
কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, জেলায় এবার ৪ হাজার ৩৪৩ হেক্টর জমিতে শীতকালিন সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করেছে। আর এ থেকে ৬৫ হাজার ১শ মেঃ টন সবজি উৎপাদন হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কেএম মাউদুদুল ইসলাম জানান, আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চেষ্টা করছি কীটনাশকমুক্ত সবজি উৎপাদনে তার দিষ্টান্ত মেহেদী আহসান উল্লাহ্ চৌধুরী। তিনি বেশ কয়েকটি পুরস্কারও লাভ করেছেন। আগাম সবজি আবাদে তার ভুমিকা রয়েছে। আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে জেলার সকল কৃষককে সবসময় পরামর্শ দিয়ে আসছি। ইতোমধ্যে জেলার আগাম সবজি বাজারে উঠতে শুরু করেছে। আগাম সবজি আবাদে শ্রমিক, কৃষক ও ব্যবসায়ী বেশ লাভবান হচ্ছেন। আশা করছি আমাদের লক্ষমাত্রা অর্জিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com