,
সংবাদ শিরোনাম :

বাকৃবিতে পরিবহন নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

আলোরকন্ঠ রিপোর্টঃ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও যথাযথ তদারকি না করা ও অব্যবস্থাপনার কারণে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। পুরনো সময়সূচিতে বাস চলাচল, বাসে বহিরাগতদের যাতায়াত, শিক্ষার্থীদের বাসে স্কুল কলেজ-কর্মকর্তা-কর্মচারী চলাচল, পরিবহনে তদারকির অভাব এবং যথাযথ নিয়ম-কানুন না থাকায় প্রতিদিনই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস চালু থাকলেও কর্মচারীদের জন্য কোনো আলাদা বাস সার্ভিস নেই। আর তাই শিক্ষার্থীদের বাসেই যাতায়াত করেন তারা। এর ফলে বাসের বেশিরভাগ সিটই বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের দখলেই চলে যায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাসের ভেতর দাঁড়িয়ে শহরে যেতে হয়। এমনকি ছাত্রীদেরকেও বেশিরভাগ সময় দাঁড়িয়ে যেতে হয়। তখন কর্মচারীরা বাসের সিটে বসে থাকেন।

Bisk Club
এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও পরিবহন শাখার সেবা নিয়ে ক্ষুব্ধ মনোভাব প্রকাশ করেছেন অনেক শিক্ষার্থী। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বারবার অভিযোগ করেও তারা কোনো সমস্যার সমাধান পাননি।

বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহন শাখা সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সকাল সাড়ে ৬টায় প্রথম বাসটি ময়মনসিংহ শহরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় এবং রাত ৯টায় সর্বশেষ বাসটি পুনরায় ফিরে আসে। এর মাঝে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসগুলো বেশ কয়েকবার আসা যাওয়া করলেও তাদের অনেকগুলো সূচিই বিতর্কিত। এতদিনেও কেন সূচিতে পরিবর্তন করা হচ্ছে না সে বিষয়েও সংশয় প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থীরা।

BAU-Transport

তাদের অনেকেরই অভিযোগ, কর্তৃপক্ষ যথাযথ তদারকির ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলেই এমন ঘটনা ঘটছে। তাছাড়া শিক্ষার্থীদেরকে প্রতি সেমিস্টারে বাস কার্ডের জন্য ৭২ টাকা জমা দেয়া হলেও আজ পর্যন্ত কোনো শিক্ষার্থীকেই বাস কার্ড দেয়া হয়নি।

মিম নামের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, কর্মচারীরা বাসের ভেতরে বসে থাকেন আর ছাত্রীদেরকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শহরে যেতে হয়। এ নিয়ে তাদেরকে বলা হলে তারা সিট ছাড়তে পারবে না বলে জানায়। আবার অনেক কর্মচারী ২-৫ মিনিটের রাস্তা পারাপারের জন্যও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে সিট দখল করে রাখে। অধিকাংশ মেয়ে তাদের হলের সামনে থেকে বাসে উঠে বিধায় তারা কোনো সিট পায় না।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের দাবি, কর্মচারীদের জন্য আলাদা বাসের ব্যবস্থা করতে হবে। সেই সঙ্গে ক্লাসের সময় অনুযায়ী একটি নতুন বাসের সূচি তৈরি করা। বাসে বহিরাগতদের যাতায়াতে নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও আহ্বান জানান শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন শাখার পরিচালক অধ্যাপক ড. খান মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বেশ কিছুদিন ধরেই অভিযোগগুলো শুনছি। এ সমস্যাগুলো অনেক আগে থেকেই সৃষ্টি হয়েছে। আমি মাত্র ৬ মাস হলো এ শাখায় নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। এ সময়ের মধ্যে বেশ কিছু সমস্যার সমাধানও করেছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে বাকি সমস্যাগুলোও সমাধান করার ব্যবস্থা করব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com