,
সংবাদ শিরোনাম :
» « ঠাকুরগাঁওয়ে এবারও শ্রেস্ট ফাড়াবাড়ি দূর্গা মন্ডপ বলে মনে করছেন ভক্তরা» « জাতীয় ঐক্য গঠন করা হয়েছে দেশের গনতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করার জন্য -মির্জা ফখরুল» « বিশ্বকাপ ট্রফি এখন ঢাকায়» « নারীদেরকে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে যুক্ত হয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে- জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান» « বালিয়াডাঙ্গীতে ভ্রাম্যমাণ থেরাপী সেবা ক্যাম্পের উদ্বোধন» « বাঁশগাড়া সরকারি প্রাইমারী স্কুলে অভিভাবক সদস্য নির্বাচন অনুষ্ঠীত» « সাংবাদিকদের সাথে রংপুর ডিআইজি’র মতবিনিময়» « ঠাকুরগাঁও বিএডিসি শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও স্বারকলিপি» « মনিরকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা» « ইতা‌লি‌তে শুরু হ‌চ্ছে দি রাইজিং স্টার

পেঁয়াজের খোসা থেকে বিদ্যুৎ

আলোরকন্ঠ রিপোর্টঃ পেঁয়াজের খোসা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছেন ভারতের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি’র (আইআইটি) গবেষকরা।

আইআইটি-র মেটিরিয়াল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ভানুভূষণ খাটুয়ার তত্ত্বাবধানে আবিষ্কৃত হয়েছে এ নতুন প্রযুক্তি। ভানুভূষণের সঙ্গে ছিলেন তার ছাত্র সুমন্তকুমার করণ, সন্দীপ মাইতি। পেঁয়াজ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই প্রযুক্তির খুঁটিনাটি ইতোমধ্যেই ‘ন্যানো এনার্জি’ নামে একটি জার্নালে প্রকাশিত নিয়েছে।

আইআইটি-র বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্রতিটি পদার্থেই ধনাত্মক ও ঋণাত্মক শক্তি রয়েছে। এলোমেলোভাবে বিরাজমান এই দুই শক্তি থেকে যদি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়, তবে তাকে বলে ‘পিজো ইলেকট্রিক’। ১৯৫৫ সালে জাপানের বিজ্ঞানী ই ফুকাদা লক্ষ্য করেন কাঠ থেকে ‘পিজো ইলেকট্রিক’ উৎপাদন করা সম্ভব। তিনি আরও দাবি করেন, যে কোনও সেলুলোজ জাতীয় পদার্থ থেকেই ‘পিজো ইলেকট্রিক’ উৎপাদন সম্ভব।

জাপানের বিজ্ঞানীর এই ভাবনাকে কাজে লাগিয়েই বিকল্প বিদ্যুৎ শক্তির উৎস সন্ধানে গবেষণা শুরু করেন আইআইটি-র গবেষক ও শিক্ষকরা। আইআইটি-র মেটেরিয়াল সায়েন্স বিভাগের গবেষকরা জানিয়েছেন, পেঁয়াজের খোসায় অন্য সেলুলোজ জাতীয় পদার্থের তুলনায় ধনাত্মক ও ঋণাত্মক শক্তি অনেক সুবিন্যস্তভাবে রয়েছে। তাই ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে পেঁয়াজের খোসা থেকে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদনের পদ্ধতি আবিষ্কারের জন্য গবেষণা শুরু হয়।

আইআইটি-র গবেষকদের দাবি, চাপ প্রয়োগ করলেই পেঁয়াজের খোসার দু’টি তলের একদিকে ধনাত্মক ও অন্য দিকে ঋণাত্মক শক্তি সৃষ্টি হচ্ছে। খোসার দু’দিকে একটি সোনালি রঙের প্রলেপ দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ‘ইলেকট্রোড’ বা বিদ্যুদ্বাহক। এরপর ওই পেঁয়াজের খোসার দু’দিকে দু’টি তার সংযুক্ত করলেই মিলছে বিদ্যুৎ।

গবেষক সুমন্তকুমার করণের দাবি, একটি এক বর্গ সেন্টিমিটার পেঁয়াজের খোসা থেকে ২ মাইক্রোওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এই বিদ্যুৎ সরাসরি ব্যবহার করা যাবে। উচ্চ ভোল্টের কোনও সরঞ্জামে এই বিদ্যুৎ কাজে লাগাতে ব্যবহার করতে হবে ‘ক্যাপাসিটার’। এমনকি ব্যাটারিতেও ওই বিদ্যুৎ সঞ্চয় করে রাখা যাবে।

আইআইটি-র গবেষকদের দাবি, পেঁয়াজের খোসা থেকে তৈরি এই ‘ডিভাইস’ মানুষের শরীরেও প্রতিস্থাপন করা যেতে পারে। এক সেন্টিমিটারের মতো দীর্ঘ এই ‘ডিভাইস’ হৃদরোগে আক্রান্ত কোনও ব্যক্তির দেহে পেসমেকারের সঙ্গেই বসানো যেতে পারে। হৃদপিণ্ডের কম্পনের ফলে সৃষ্ট শক্তি কাজে লাগিয়েই এই ‘ডিভাইস’ বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে। ফলে পেসমেকারের ব্যাটারি বদলের জন্য কয়েক বছর অন্তর অস্ত্রোপচার করার দরকার পড়বে না।

আইআইটি-র অধ্যাপক ভানুভূষণবাবু বলেন, পেঁয়াজের খোসা মানুষের শরীরে কোনও ক্ষতি করে না। বরং অ্যান্টি অক্সিডেন্টের কাজ করে পেঁয়াজের খোসা। মানুষের শরীরে এই ‘ডিভাইস’ রাখা হলে কোনও ক্ষতি হবে না। ফলে আগামী দিনে পেসমেকারের ব্যাটারি চার্জ করার কাজেও এই ‘ডিভাইস’ কাজে লাগানো যেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com