,
সংবাদ শিরোনাম :

উৎপাদনশীলতা পুরস্কারপ্রাপ্তদের সুবিধা নিশ্চিতে নীতিমালা হচ্ছে

আলোরকন্ঠ রিপোর্টঃ জাতীয় উৎপাদনশীলতা পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করবে শিল্প মন্ত্রণালয়। এ নীতিমালা হবে বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা সিআইপি (শিল্প) নীতিমালার অনুরূপ। এর ফলে জাতীয় উৎপাদনশীলতা পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের জন্য সরকার প্রদেয় সুবিধাদি নিশ্চিত হবে।

বুধবার শিল্প মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় উৎপাদনশীলতা পরিষদ (এনপিসি)- এর দ্বাদশ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। দেশের শিল্প ও সেবাসহ বিভিন্নখাতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে কর্ম-কৌশল নির্ধারণের জন্য এ সভার আয়োজন করা হয়। শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এতে সভাপতিত্ব করেন।

সভায় শিল্পসচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, বিদ্যুৎ সচিব ড. আহমদ কায়কাউসসহ শিল্প, বাণিজ্য, পাট ও বস্ত্র, তথ্য, কৃষি এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ, বিদ্যুৎ ও সড়ক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নাসিবের প্রেসিডেন্ট, এফবিসিসিআই, ডিসিসিআই, এমসিসিআই, বিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতি, আইইবি, বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন, এপিও সোসাইটি ফর বাংলাদেশ, এনপিও, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের প্রতিনিধিসহ কমিটির সংশ্লিষ্ট সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ন্যাশনাল প্রোডাক্টিভিটি অ্যান্ড কোয়ালিটি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের মনোনীত প্রতিনিধিরা একটি ট্রফি, সনদপত্র এবং নিজ প্রতিষ্ঠানের পণ্যের অনুকূলে তিন বছরের পাবলিসিটির জন্য অ্যাওয়ার্ডের লোগো ব্যবহারের সুযোগ পেয়ে থাকেন। সুস্পষ্ট নীতিমালা না থাকায় তারা সিআইপি (শিল্প) হিসেবে নির্বাচিতদের মতো অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে না। এ বিবেচনায় নতুন এ নীতিমালা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

সভায় শিল্প, সেবা ও কৃষিখাতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় পাট শিল্পখাতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পাটকলের আধুনিকায়ন ও পণ্য বহুমুখীকরণের চলমান উদ্যোগ এগিয়ে নিতে এনপিওর কার্যক্রম জোরদারের তাগিদ দেয়া হয়।

তৃণমূল পর্যায়ে উৎপাদনশীলতাবিষয়ক জনসচেতনতা বাড়াতে বলা হয়। এ লক্ষ্যে দেশব্যাপী এনপিও’র প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। একই সঙ্গে এনপিও থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিল্প কারখানার উৎপাদনশীলতার উন্নয়ন, মুনাফা বৃদ্ধি, শ্রমিক-কর্মচারীদের আচরণ পরিবর্তনসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে প্রশিক্ষণের প্রভাব সম্পর্কে বাস্তব সম্মত গবেষণা পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সভায় মাধ্যমিক শিক্ষা কারিকুলাম উৎপাদনশীলতা বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে বিদ্যমান কারিকুলাম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে একটি বাস্তসম্মত কনটেন্ট তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব (সাধারণ) এর নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পাশাপাশি জাতীয় উৎপাদনশীলতা পরিষদের কর্মকাণ্ড গতিশীল করার লক্ষ্যে এনপিসিতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তকরণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের (প্রশাসন) নেতৃত্বে এফবিসিসিআই, এসএমই ফাউন্ডেশন ও এনপিওর অংশগ্রহণে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, শিল্পখাতে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এপিও’র প্রশিক্ষণ কার্যক্রম তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। পাট শিল্পের গুণগত উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় নতুন যন্ত্রপাতি স্থাপন ও পণ্য বৈচিত্রকরণের প্রয়াস জোরদার করা হয়েছে। এখাতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, দক্ষতা অর্জন এবং অপচয়রোধে এনপিও’র প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com