,
সংবাদ শিরোনাম :
» « ঠাকুরগাঁওয়ে ইউনিয়ন পরিষদের উন্মুক্ত বাজেট» « ইতালীতে ৪ বাংলাদেশীর বিরুদ্ধে ধর্ষনের অভিযোগ» « ঠাকুরগাঁওয়ে সড়ক দূর্ঘটনায় ভুমি কর্মকর্তা নিহত» « ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশের গুলিতে মাদক ব্যবসায়ী নিহত: দুই পুলিশ আহত» « বিরোধী দলকে দমন করতেই সরকার আইনশৃংখলা বাহিনীকে ব্যবহার করছে -বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল» « অল ইউরোপিয়ান বাংলা প্রেস ক্লাবের প্যারিসে ইফতার মাহফিল» « ইতালীতে বই মেলায় বাংলাদেশী শিক্ষার্থীর কৃতিত্ব» « বাংলাদেশে পোল্যান্ড দূতাবাস স্থাপন ও পোল্যান্ড সরকারের সাথে সম্পর্ক স্থাপনে কাজ করছে বাংলাদেশ সরকার» « ঠাকুরগাঁও বিএডিসি শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি» « ঠাকুরগাঁওয়ে প্রযুক্তিগত শিক্ষা অর্জনের ভুমিকা সেমিনার

আমি রাজাকার : একটি আলোকচিত্র

আলোরকন্ঠ রিপোর্টঃ আমি শেষবার এই কথাটি শুনেছিলাম ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বর কিংবা অক্টোবর মাসে। তাড়া খাওয়া পশুর মতো দেশের নানা জায়গা ঘুরে শেষ পর্যন্ত ঢাকা এসে আশ্রয় নিয়েছি। তখন দেশের অন্য যে কোনও জায়গায় যে কোনও সময় পাকিস্তান মিলিটারি যে কোনও মানুষকে অবলীলায় মেরে ফেলতে পারত। সেই হিসেবে ঢাকা শহর খানিকটা নিরাপদ। দেশটা ঠিকমতো চলছে দেখানোর জন্য এখানে প্রকাশ্যে এক ধরনের শান্তিপূর্ণ অবস্থা দেখানো হয়। তারপরেও কম বয়সীদের অনেক বিপদ, তারা রাস্তাঘাটে বেশি বের হয় না। মাথায় লম্বা চুল থাকা রীতিমতো বিপজ্জনক। একদিন আমি বিপদ কমানোর জন্য নীলক্ষেতে একটা নাপিতের দোকানে চুল কাটাচ্ছি। তখন হঠাৎ করে সেখানে একটা মানুষ এসে ঢুকলো এবং আমার পাশের খালি চেয়ারটাতে খুব আয়েশ করে বসে নাপিতের সঙ্গে আলাপ জুড়ে দিল। আলাপের বিষয়বস্তু সে নিজে, এখন সে কী করে তার কত রকম সুযোগ-সুবিধা এবং ক্ষমতা ইত্যাদি ইত্যাদি। নাপিত এক সময় মানুষটিকে জিজ্ঞেস করল, ‘আপনি কী করেন?’ মানুষটি দাঁত বের করে হেসে বলল, ‘আমি রাজাকার’। মানুষটি খানিকক্ষণ গালগল্প করে যেভাবে এসেছিল সেভাবে চলে গেলো। নাপিত তখন একটা লম্বা নিঃশ্বাস ফেলে আমাকে বলল, ‘হারামজাদা রাজাকারের ভাবটা দেখেছেন? শালার ব্যাটার কথা শুনলে মনে হয় দেশটা তার বাপের সম্পত্তি!’

১৯৭১ সালে রাজাকারদের সম্পর্কে এর চাইতে সম্মানজনক কোনও বিশেষণ ব্যবহার করা হয়েছে বলে আমি মনে করতে পারি না। রাজাকার কী বস্তু সে ব্যাপারে এখনও যাদের সন্দেহ আছে তাদের আমি আমাদের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে যেতে বলবো। সেখানে এক জায়গায় একটা রাজাকারের অন্য একটা রাজাকারের কাছে লেখা একটা চিঠি বড় করে টানানো আছে। সেখানে একজন পাকিস্তানি মেজরের নাম উল্লেখ করে বলা আছে, মেজর সাহেব ভালো ‘মাল’ পছন্দ করেন তাই প্রত্যেক দিন তাকে যেন একটি করে মেয়ে ধরে এনে দেওয়া হয়! আমরা যারা ১৯৭১ দেখেছি তাদের কাছে রাজাকারদের চাইতে ঘৃণিত কোনও প্রাণী আছে বলে মনে করতে পারি না। রাজাকাররা নিজেরাও সেটা জানত, তাই তারাও যে খুব বড় গলায় গর্ব করে বুকে থাবা দিয়ে ‘আমি রাজাকার’ বলে বেড়িয়েছে সে রকম মনে করতে পারি না। তাই ২০১৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের কোটাবিরোধী আন্দোলনের ফলাফল হিসেবে যখন দেখি একজন ছাত্র নিজের বুকে ‘আমি রাজাকার’ কথাটি লিখে গর্বভরে দাঁড়িয়ে আছে সেটি বিশ্বাস করতে পারিনি। মাথায় আগুন ধরে যাওয়া বলে একটা কথা আছে, এই কথাটির প্রকৃত অর্থ কী আমি এই ছবিটি দেখে প্রথমবার সেটি অনুভব করেছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com