,
সংবাদ শিরোনাম :

বৃহৎ ঔষধ কারখানা উদ্বোধন হচ্ছে চলতি মাসেই

আলোরকন্ঠ রিপোর্টঃ ঔষধ রফতানিতে বর্তমানে ৪৮টি দেশের মধ্যে শীর্ষ স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। ঔষধ উৎপাদনের জন্য বর্তমানে দেশে কাজ করে যাচ্ছে দুই শতাধিক ঔষধ উৎপাদনকারী কোম্পানি। এসব কোম্পানিতে প্রতি বছর ২৪ হাজার ব্র্যান্ডের ঔষধ উৎপাদিত হয়ে থাকে। এই ঔষধ উৎপাদনের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে দুই লক্ষাধিক কর্মী। বর্তমানে ১৬০টি দেশে বাংলাদেশের তৈরী ঔষধ রফতানি করা হচ্ছে।

ঔষধ রফতানিতে শীর্ষস্থান অধিকারের পর দক্ষিণ এশিয়ার বৃহৎ ঔষধ কারখানা উদ্বোধন করতে যাচ্ছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকারি মালিকাধীন ঔষধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি’ লিমিটেডের (ইডিসিএল)। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত স্থান গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় এই ঔষধ কারখানাটি নির্মাণ করা হয়েছে। দশ একর জমির ওপর দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ সরকারি এই ঔষধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ৭শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে এবং সম্পূর্ণ দেশের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের চারটি ইউনিটের মধ্যে পেনিসিলিন ইউনিটটিতে চলতি মাসেই পরীক্ষামূলক উৎপাদন কাজ শুরু করা হবে। আগামী ডিসেম্বর থেকে কারখানাটিতে পূর্ণ মাত্রায় উৎপাদন শুরু হবে। এই ইউনিটে পেনিসিলিন জাতীয় ১২ ধরনের এন্টিবায়োটিক ঔষধ উৎপাদন করা হবে।

প্রকল্প সূত্র থেকে জানা যায়, এই ঔষধ কারখানাটি সম্পূর্ণরূপে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করলে বছরে ৩ হাজার ৩শ’ মিলিয়ন জন্ম নিয়ন্ত্রণ ইনজেকশন, ৩ হাজার ২ মিলিয়ন পিল, ১৮১ মিলিয়ন পেনিসিলিন ট্যাবলেট, ২১৭ মিলিয়ন পেনিসিলিন ক্যাপসুল উৎপাদিত হবে। ইডিসিএল’র এই নতুন কারখানায় ৭৭৮ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে।

দেশের সকল সরকারি হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে সরকার বিনামূল্যে প্রায় সকল ধরণের ঔষধ জনগণের মাঝে বিতরণ করে থাকে। আর এই ঔষধের প্রায় ৭২ শতাংশ যে প্রতিষ্ঠানটি তৈরি করে সেটি হচ্ছে বাংলাদেশ সরকারের শতভাগ মালিকানাধীন একমাত্র রাষ্ট্রীয় ঔষধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইডিসিএল। এই প্লান্টটি কার্যক্রম শুরু করার ফলে পুরো ১০০ শতাংশ ঔষধ বিনামূল্যে বিতরণ করা সম্ভব হবে।

দেশের মানুষের সুস্বাস্থ্য এবং সুচিকিৎসার কথা চিন্তা করে বর্তমান সরকার নিয়েছে বিভিন্ন পদক্ষেপ। যাতে একজন মানুষও দেশের মাটিতে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হয়। দেশের সকল মানুষের বিদেশের মাটিতে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার সামর্থ নেই। এজন্য দেশেই ব্যবস্থা করা হয়েছে উন্নত চিকিৎসা। দেশে চিকিৎসাসেবার যাতে কোনো ঘাটতি না হয় এজন্য বৃহৎ ঔষধ কারখানাও নির্মাণ করেছে বর্তমান সরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com