,
সংবাদ শিরোনাম :

ঠাকুরগাঁওয়ের মোহিনী তাজ বাড়ির পার্কে চলছে অসামাজিক কার্যক্রম

আলোরকন্ঠ রিপোর্টঃ ঠাকুরগাঁওয়ের একজন চিকিৎসক তার স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা ও নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নে দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয় স্থাপত্যশৈলী “মোহিনী তাজ” নামে বাড়ি ও পার্ক তৈরি করেছে এটা যেমন সত্যি। তেমনি এটাও সত্য বাড়ির নাম ফুটিয়ে পার্কের ভেতর চলছে অসামাজিক কার্যক্রম। তবে চিকিৎসক অভিযোগ অস্বীকার করেন।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চিলারং ও আখানগড় ইউনিয়নের চতুরাখোর গ্রামের মাধবীকুঞ্জে নির্জন জায়গায় চিকিৎসক ফিরোজ জামান জুয়েল নিজেই আর্কিটেকচার, ইঞ্জিনিয়ার, ডিজাইনার এর ভূমিকা পালন করে এই দৃষ্টিনন্দীত “মোহিনী তাজ” নামে বাড়িটি তৈরি করছেন। যার কাজ এখনো অমাপ্ত।
ডাঃ জুয়েল জানান, নিজের স্বপ্ন, পরিবারের প্রতি দায়িত্ব, নারী জাতির প্রতি শ্রদ্ধা ও স্ত্রীর প্রতি অফুরন্ত ভালোবাসাকে উৎসাহ ও সাহস হিসেবে নিয়ে তিনি “মোহিনী তাজ” এর কাজ শুরু করেন। পরে ২০১৭ সালের ২৬শে নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে “মোহিনী তাজ”। অবসর সময় কাটানোর জন্য ও দৃষ্টিনন্দীত “মোহিনী তাজ” দেখার জন্য প্রতিদিন দর্শনার্থীর ভির জমায় সেখানে। প্রায় ১১ শতক জমির উপড় নির্মান করা হয় তিন তলা ভবনের এই বাড়িটি। আর বাড়ি আশপাশের ৫ একর জমির উপড় তৈরি করা হয় পার্ক।
স্থানীয় এলাকাবাসি সুরেশ চন্দ্র, আব্দুল গনি, হরিশ চন্দ্রসহ অনেকে অভিযোগ করে বলেন, ডাক্তার সাহেব বাড়ি তৈরি করার সময় আমরা মনে করেছিলাম উনি শহরে থাকেন হয়তো মাঝে মাঝে এই বাসায় এসে থাকবেন। আমরা উনার কাছে চিকিৎসা সেবা নিব। কিন্তু কয়েকদিন পর দেখছি বাড়ির জমিতে পার্কের ব্যবস্থা করেছেন। পার্কের জন্য ইলেকট্রিকাল ট্রেন, দোলনা, আম ও লিচু গাছের নিচে সেট দিয়ে তৈরি করে বসার ব্যবস্থা করেছেন। ৪০ টাকায় জন প্রতি টিকিট সংগ্রহ করে সেখানে প্রতিদিন জেলা ও জেলার বাহির থেকে স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা এসে নির্জনে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় ব্যয় করছেন। চলছে অসামাজিক কার্যক্রম। আমরা অবাক হয়ে দেখছি। আমরা সাধারন মানুষ বলে এ প্রতিবাদ করতে পারছি না। আমরা আশা করবো প্রশাসন যুব সমাজকে রক্ষায় পার্কটি উচ্ছেদের ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।
এ বিষয়ে চিকিৎসক ফিরোজ জামান জুয়েল বলেন, আমার বাড়ি ও পার্ক সিসি ক্যামরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত আমি এতো দিনে কোন অভিযোগ পাইনি বলে বিষয়টি অস্বীকার করেন।
আর চিলারং ইউনিয়ন ও আখানগর ইউনিয়নের চেয়ারমন আইয়ুব আলী ও নুরুল ইসলাম জানান, আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিবো।
জেলা পরিষদের সদস্য ও চার ইউনিয়নের দায়িত্বরত প্রতিনিধি নজরুল ইসলাম স্বপন জানান, আমি এলাকার মানুষের মুখে পার্কে অসামাজিক কার্যকলাপের কথা শুনেছি। আমি জেলা প্রশাসক ও নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবগত করবো। এলাকার পরিবেশ ভাল থাকার জন্য যা করার দরকার তাই করবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com