,
সংবাদ শিরোনাম :

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগ, দ্বিধায় বিএনপি

আলোরকন্ঠ রিপোর্টঃ খুব বেশি দিন বাকি নেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের। আগামী ডিসেম্বরের শেষার্ধে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে পারে। অক্টোবর বা নভেম্বরে তফসিল ঘোষণা করার সম্ভাবনা আছে। সে প্রস্তুতি ধরেই এগোচ্ছে নির্বাচন কমিশন। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভা গঠন করা হতে পারে। ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী প্রস্তুতি ‍শুরু করে দিয়েছে। তবে সংসদ নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকলেও দ্বিধায় ভুগছে বিএনপি।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে তৃণমূলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে জেলায় জেলায় সাংগঠনিক সফর অব্যাহত রেখেছে আওয়ামী লীগ। ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর দেশের উত্তরাঞ্চলে ট্রেন সফর করেছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। গত ২১ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামে তিন দিনব্যাপী রোডমার্চ করেছেন দলটির সিনিয়র নেতারা।

সে সময় পথ সভাগুলোয় সরকারের উন্নয়ন প্রচার ও আগামীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে কী করবে সেই ভবিষ্যৎ কর্ম পরিকল্পনা তুলে ধরেন তারা। একই সঙ্গে দলের নেতাদের ঐক্যবদ্ধ থাকারও নির্দেশ দেন। দলীয় সূত্রমতে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে দলীয় ঐক্যের ওপর। এজন্য যেসব জেলা-উপজেলায় বা সংসদীয় আসনে দলীয় কোন্দল রয়েছে, সেসব জেলার নেতাদের ঢাকায় ডেকে ইতোমধ্যে কথা বলছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

দলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনের আগে ১২ লাখ পোলিং এজেন্টকে প্রশিক্ষণ দেবে আওয়ামী লীগ। শীঘ্রই এ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়াও নির্বাচনী কেন্দ্রভিত্তিক কমিটিগুলো দ্রুত শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে অনেক নির্বাচনী এলাকায় কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠন শেষ পর্যায়ে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকাও প্রায় চূড়ান্তের দিকে।

তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপির একার পক্ষে নির্বাচনী প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করেন বিএনপির নীতি নির্ধারকরা। নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার দাবি করছে দলটির নেতারা। তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার দাবি আদায়ে ব্যর্থ হয়ে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। আন্দোলন করে অনেকটা ক্লান্ত বিএনপি আগের অবস্থান থেকে সরে এসে নিরপেক্ষ সরকারের দাবি তুলে।

এর মধ্যে দলের প্রধান খালেদা জিয়া দুর্নীতির দায় মাথায় নিয়ে ৮ মাস যাবৎ কারাগারে। দলের প্রধান কারাগারে ও তারেক রহমান দীর্ঘদিন লন্ডনে পলাতক থাকায় বেশ চাপে পড়েছে দলটি। একদিকে দলীয় প্রধানের মুক্তি, অন্যদিকে নির্বাচনের প্রস্তুতি- দুই চ্যালেঞ্জ নিয়ে বেকায়দায় দলটি।

খালেদা ও তারেকের অবর্তমানে কার নেতৃত্বে আগামী নির্বাচনে অংশ নিবে তা নিয়ে দ্বন্দ্বও দেখা দিয়েছে বিএনপিতে। জামায়াতকে ছাড়াই যুক্তফ্রন্টের সাথে ঐক্য করা নিয়ে নতুন করে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে সিনিয়র নেতা ও তৃণমূল নেতাদের মধ্যে।

খালেদা জিয়ার মুক্তি নির্বাচনের জন্য অন্তরায় নয় বলে মনে করেন স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। দলের অন্তঃকোন্দলই মূল কারণ। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচনী প্রস্তুতি নেয়া বিএনপির জন্য ভাবনার বিষয় হিসেবে দেখা দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com