,
সংবাদ শিরোনাম :

১২৫ বছরে শেখ হাসিনাই প্রথম সফল হলেন: বাকি সবাই ব্যর্থ

আলোরকন্ঠ রিপোর্টঃ বৃটিশ সরকার ব্যর্থ, পাকিস্তান সরকার ব্যর্থ, বাংলাদেশের অন্যান্য সরকারও ব্যর্থ- সফল হল আওয়ামী লীগ সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত আগ্রহ এবং সংকল্পে আলোর মুখ দেখলো একটি রেল প্রকল্প।

চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে মিয়ানমার সীমান্ত গুনদুম পর্যন্ত প্রায় ১২৮ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণের স্বপ্ন প্রথম দেখা হয়েছিল ১৮৯০ সালে। সোয়া শ’ বছর আগে এ রেল যোগাযোগের বিষয়ে প্রথম আগ্রহ প্রকাশ করেছিল তৎকালীন ব্রিটিশ কলোনি মিয়ানমার। ১৮৯০ সালে মিয়ানমার রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম থেকে রামু ও কক্সবাজার হয়ে রেলপথ নির্মাণের জন্য সমীক্ষা চালানোর উদ্যোগ নেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৯০৮-০৯ সালে মিয়ানমার রেলওয়ে সমীক্ষাও চালায়। এরপর ১৯১৭ থেকে ১৯১৯ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম-দোহাজারী-রামু হয়ে আকিয়াব পর্যন্ত আবারও সমীক্ষা চালানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পের কাজও শুরু হয়। তখন চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটারের মতো রেলপথ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে বাকি রেলপথ নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমার তিনটি পৃথক রাষ্ট্র হিসেবে স্বাধীনতা লাভ করে। কিন্তু রেলপথ আর হয়নি। এরপর ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান সরকার একবার উদ্যোগ নিলেও সফল হয়নি।

জাপান রেলওয়ে টেকনিক্যাল সার্ভিস (জেআরটিএস) ১৯৭১ সালে এ পথে ট্রাফিক সম্ভাবনা সমীক্ষা করার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ায় তা আর সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর আবার পাদপ্রদীপের আলোয় আসে এ প্রকল্পটি। সরকারের অনুরোধে ১৯৭৬-৭৭ সালে আবার সমীক্ষা করে জেআরটিএস। পরে ১৯৯২ সালে এসকাপ কমিশন অধিবেশনে তিনটি ইউরো-এশিয়া রেল নেটওয়ার্ক স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। এর একটি রুট বাংলাদেশ হয়ে মিয়ানমার যাওয়ার কথা। তারপর অনেক দিন এ নিয়ে আর কথা হয়নি। বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর আঞ্চলিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে আবারও এ রেলপথটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফিরোজ সালাহ উদ্দিন বলেন, ‘সোয়া শ’ বছর আগেই এ রেলপথ করার কথা ছিল। এতে বোঝা যায়, তখনো এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব ছিল। কিন্তু নানা কারণে তা সম্ভব হয়নি’। তিনি বলেন, ‘এখন যেহেতু ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ের সঙ্গে বাংলাদেশ যুক্ত হয়েছে। ভবিষ্যতে মিয়ানমারের আকিয়াব হয়ে তা চীন পর্যন্ত বিস্তৃত হবে’। তাই গুরুত্ব বুঝে নতুন করে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।

প্রথমে মিটারগেজ রেলপথ নির্মাণের কথা ছিল। কিন্তু এখন প্রকল্পটি সংশোধন করে ডুয়ালগেজ রেলপথ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে উত্তরবঙ্গের মানুষও সরাসরি পর্যটন নগর কক্সবাজারে যেতে পারবে।

১৮৯০ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এই দীর্ঘ সময়ে যে প্রকল্প সফল হয়নি, সেটি এখন সফল হতে চলছে। ১২৫ বছরের সবার ব্যর্থতা ভেঙ্গে শেখ হাসিনাই প্রথম সফল হতে চলছেন। তাঁর পথ চলা আরও সুমসৃণ হোক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com