,
সংবাদ শিরোনাম :
» « ঠাকুরগাঁও জেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি মকবুল হোসেন বাবুর ইন্তেকাল» « পঞ্চগড়ের রাবার ড্যামটি অকার্যকর হওয়ায় এলাকা প্লাবিত» « পঞ্চগড়ে চা চারা চুরির অভিযোগে মামলা» « এরশাদের মৃত্যুতে রেলপথ মন্ত্রীর গভীর শোক প্রকাশ» « সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন পঞ্চগড়ে প্রবল বর্ষণ ও ঝড়ো হাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতি» « খুলনার দাকোপের লাউডোবে রুপান্তরের আয়োজন কিশোর- কিশোরীদের সু-স্বাস্থ্য সুরক্ষিত পরিবেশ প্রতিষ্ঠা বিষয়ক ক্যাম্পাইন অনুষ্ঠিত» « সারাদেশে অব্যাহত সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিবাদে সোনাগাজী রিপোর্টার্স ইউনিটির মানববন্ধন» « ঠাকুরগাঁও গড়েয়ায় জুয়ার আসর আগুনে পুড়িয়ে দিল ওসি আশিকুর রহমান» « সাংবাদিক রাসেদুল ইসলাম রাসেল নিখোঁজ» « সোনাগাজীর ছাড়াইতকান্দি হোসাইনিয়া দাখিল মাদ্রাসার নবনির্মিত ভবনের শুভ উদ্বোধন করেন- মাসুদ চৌধুরী এমপি

স্বাধীনতা দিবস কনসার্ট ও প্রসঙ্গ কথা। -আবু মহী উদ্দীন

২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসনের আয়োজনের কোন ঘাটতি ছিলনা। ক’ বছর থেকে সুর্যোদয়ের সাথে সাথে রাষ্ট্রের পক্ষে মাহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং সরকারের পক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতীয় স্মৃতি সৌধে শ্রদ্ধা জানানোর পরপরই সারাদেশে একযোগে সকল শহীদ বেদিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তি শ্রদ্ধা জানায়। ১৯৭২ সাল থেকে শুরু করে মাঝখানে ৮১ এর ২১ ফেব্রæয়ারি এ্যাথলেটিকস কোচিং ট্রেনিংয়ে থাকার কারনে সেবার বাদ দিলে ৭২ থেকে ৯০ নিজ মহকুমা ও জেলা শহরে এবং তার পর সরকারি চাকুরীর সুবাদে বিভিন্ন জেলায় বছরের  ৩টি দিনে পুস্পস্তবক অর্পনের এই অনুষ্ঠান পরিচালনার গৌরবময় অধ্যায় আমার জীবনে রয়েছে। দেশের সব জেলা সদরে সরকার নির্মিত মুক্তিযুদ্ধের  স্মৃতি স্তম্ভে ফুল দেয়া হয়। ঠাকুরগাঁওয়েও তাই হতো। রুচিবান মানুষ  ড: মুহম্মদ শহীদ উজ জামান  ই এস ডি ও পরিবারের সদস্যদের  অর্থায়নে ‘অপরাজেয় ৭১’ তৈরি করে  দিলে স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা জানানোর একটি গর্বিত স্থাপনা তৈরি হয়। স্বাধীনতার ৪০ বছর পর দৃষ্টিনন্দন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার তৈরি করতে  সাংসদ  রমেশ চন্দ্র সেন ,মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এবং তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোহা. শহীদুজ্জামান , নির্মান  কমিটির আহবায়ক মাহবুবর রহমান খোকন বেশ সাহস করে ঝামেলা মোকাবেলা করে  জেলা সদরের এই প্রয়োজনীয় কাজটা করেছিলেন। শহীদ মিনার নির্মিত হলে সবাই খুবই উৎসাহের সাথে নবনির্মিত শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া শুরু করেন। তবে একটা বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন যে দেশের অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি এবং তাদের সকল অংগসংগঠন এই দুই স্থাপনায়  ফুল দিতে  যায়না।  আমার ধারনা কোন এক সময় বিএনপিকে এর জন্য ঠাকুরগাঁও বাসীর নিকট অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে। গত ২৬ মার্চে সুর্যোদয়ের সাথে সাথে  ৩১ বার তোপধ্বনির পর বিউগলে করুন সুর বাজিয়ে  উপস্থিত সবাই শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।   মোটামুটি শৃঙ্খলার সাথে ৩০ মিনিটের মধ্যে ভিড় কমে যায়। অন্যান্য বারে মোটামুটিভাবে দেড় ঘন্টা সময় লাগতো।
অপরাজেয় ৭১ প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিটি অনুষ্ঠানে ধারাক্রম রক্ষা করার দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছি। তবে এবারে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা কম ছিল। স্বাধীনতা দিবসে সকল সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের গুরুত্বপুর্ণ জাতীয় দিবস উদযাপনের সুবিধার্থে ছুটি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু বেশ কিছু দিন থেকে এই সব দিবসে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীরা ছুটিই ভোগ করতেই আগ্রহী বেশী। জেলা প্রশাসক সাহেব প্রতিটি দিবসের প্রস্তুতি সভায় সকল কর্মকর্তাকে গুরুত্বের সাথে বিষয়টি মনে করে দিলে কি হবে , কা তব কান্তা ? সরকারের অনুরোধে কোন একটি দিবসে গোয়েন্দা দপ্তর যদি একটু তৎপরতা দেখায় তাহলে একটা তুল কালাম কান্ড ঘটে যেতে পারে।  আয়োজনের গুরুত্ব বাড়িয়ে দেয়া  বর্নাঢ্য স্বাধীনতা র‌্যালিটি  অপরাজেয় ৭১ থেকে শুরু হয়ে ঠাকুরগাঁয়ের প্রথম শহীদ মোহাম্মদ আলীর মাজার এবং নরেশ চৌহানের স্মৃতি স্তম্ভে ফুল দিয়ে শেষ হয়। তবে একটা অপুর্ণতা নিয়ে প্রস্তুতি সভায় আবেদন জানানো  হলেও ঠাকুরগাঁওবাসীর এই আকাংখাটি পুরণ হয়নি। তা হলো ঈদ , স্বাধীনতা বা বিজয় দিবসে শহরে ঢোকার মুখে ২টি গেট। এটা যে পৌরসভাকেই করতে হবে এমন কোন কথা নেই। যে কোন সংগঠনই এই চাহিদা পুরণে এগিয়ে আসতে পারে। অন্যান্য জেলা শহরে  শুরু হয়েছে , আমরা পিছিয়ে থাকব কেন ?  আশা করা যায় আগামী ঈদ থেকেই পৌর কর্তৃপক্ষ বা যে কেউ আমাদের সেন্টিমেন্টটা বুঝতে পারবে।
এর পর বড় মাঠে আনুষ্ঠানিক জাতীয় পতাকা উত্তোলন বেশ আড়ম্বরের সাথে অনুষ্ঠিত হয়। মাননীয় প্রধানমšী¿ বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে পতাকা উত্তোলন  করেন তাঁর সাথে সাথেই সারা দেশে একই সেেঙ্গ পতাকা উত্তোলন  এবং জাতীয় সংগীত গাওয়ার ফলে অনুষ্ঠানটি ভিন্ন মাত্রা পায়। তবে ৯ টার কুচকাওয়াজ ৮ টার সময় করতে বড়রা গলদঘর্ম হলেও আমাদের  ছেলেমেয়েরা সময়মতোই মাঠে হাজির হয়েছে।  কুচকাওয়াজে কলেজ , মাধ্যমিক  , প্রাথমিক বিদ্যালয় , সামাজিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান , বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের প্রতিষ্ঠান সহ ৭৫ টি দল অংশগ্রহণ করে। অন্যান্য বারে দূণীতি প্রতিরোধ কমিটির একটি ছাত্র প্রতিনিধি দল কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করতো। সরকার প্রধান দূনীতিতে জিরো টলারেন্স ঘোষণার পর তাদের কাজ শেষ বলে মনে হয়। কেননা ঠাকুরগাঁওয়ের দূর্ণীতি প্রতিরোধ কমিটি দৃশ্যমান কিছু করেছে বলে মনে করার কোন কারণ নাই। কমিশন নির্দেশিত দিনে কিছু ছাত্র নিয়ে  ডিসি সাহেবের হল ঘরে নিস্ফল আলোচনা সভা , কয়েকটা ছাত্র নিয়ে মানববন্ধনের প্রদর্শনী  করে দূর্ণীতি দমন প্রতিরোধ করা হয়েছে। প্রশ্ন করা যেতে পারে জেলা দূর্ণীতি প্রতিরোধ কমিটি গঠণের পর গোটা ঠাকুরগাঁও জেলায় কোথাও কী কোন দূর্ণীতির ঘটনা ঘটেনি বা ঘটেনা ? যেহেতু তারা কোন রকম খোজ পায়নি সুতরাং ধরে নেওয়া যায় ঠাকুরগাঁও জেলা সকল রকমের   দূর্ণীতির উর্ধে। প্রতিরোধ কমিটির ভয়ে দূর্ণীতিবাজরা জড়োসড়ো হয়ে আছে। দূর্ণীতি আছে কীনা সরকারি সেবা যারা নিয়ে বাড়ী ফেরেন তাদের সাথে একটু আলাপ করে দেখেন হয়তো খোজ পাবেন।

আমার জানা মতে স্বাধীনতা উত্তর কালে বেলা ১১ টার মধ্যে কুচকাওয়াজ সহ  সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ করা এই প্রথম।  মুক্তিযোদ্ধাদের সম্বর্ধণায়   প্রতিবারে  ২ টি অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে বৈষয়িক সহযোগিতা দেওয়া হতো এবারে ১০ পরিবার এবং চার শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে সৌজন্য উপহার এবং আগত সকল মুক্তিযোদ্ধা , শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যকে আপ্যায়িত করা হয়েছে।   মহিলাদের  খেলাধুলা বেশ আড়ম্বর সহকারে অনুষ্ঠিত হয়। বিকালে ফুটবল খেলার আয়োজনে পৌরসভার  দেওয়া উপহারটা বেশ আকর্ষনীয় ছিল।  আয়োজনের কম অনাকর্ষনীয় বিষয় হলো সবাইকে  পুরস্কার  দিতে না পারা। কেননা প্রতিবছরই  শরীক হতে আগ্রহীর সংখ্যা বাড়ে।  পুরস্কারের মান  কমে দিয়ে  সংখ্যা বেশী করার  পরামর্শ  দেওয়া হয়েছে কিন্তু পুরস্কারের মানের প্রশ্নে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ  আপোষ না করায়  সবাইকে পুরস্কার দেওয়া সম্ভব হয়না।  যারা পুরস্কার পাননা তারা খুব যে মনক্ষুন্ন হন তা নয়। এ বিষয়টি যে শুধু আমাদের দেশেই আছে তা নয় বিদেশেও আছে। জাতীয় দিবস সমুহে বিশিষ্ট নাগরিকগণ গেট টুগেদার করেন। অংশগ্রহণের উপর তারা গুরুত্ব আরোপ করেন। পরের দিন ঞ ২০ ক্রিকেট ম্যাচ নিয়ে আরো আকর্ষনীয আয়োজন  স্পন্সর করেছিলেন হাওলাদার গ্রæপের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট ব্যবস্যায়ী আলহাজ আব্দুস সালাম হাওলাদার। এখানেও খেলোয়ার সংখ্যা একাদশের বদলে  বহুদশে পরিণত হয়। অনেক খেলোয়াড়কে কেবল জার্সি পরেই শান্তনা খুজতে হয়েছে।  স্বাধীনতা পুর্ব এবং উত্তরকালে দীর্ঘদিন পর্যন্ত এই আয়োজনে শহরের জৈষ্ঠ নাগরিকগণ পৌরসভার পক্ষে এবং মহকুমা/জেলা প্রশাসকের পক্ষে সিনিয়র কর্মকর্তাগণ অংশগ্রহণ করতেন। ইদানিং বিষয়টিতে পরিবর্তন এসেছে। এখন তরুনরা  অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী বেশী।  খেলা শেষে তোয়ালা , সুগন্ধী সাবান , গেঞ্জি , প্লেট , মগ ইত্যাদি উপহার দেওয়া সেই কবে চালু হয়ে ধারাবাহিকতা রক্ষা  করছে তা এক গবেষণার বিষয়।  স্পন্সরের দেওয়া উপহার রুচির পরিচয় বহণ করে।  তবে আর কয়েকটা উপহার থাকলে সবাইকে দেওয়া যেতো  তাহলে সর্বাঙ্গ সুন্দর হতো।
সন্ধার আয়োজন ছিল স্বাধীনতা কনসার্ট। ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম জেলা প্রশাসক হিসাবে যোগ দিয়ে  জাতীয় দিবস উদযাপনে ২ টি বিষয় যোগ করেছেন। একটা র‌্যালি এবং অন্যটা কনসার্ট। এই কনসার্টে ঠাকুরগাঁওয়ের শিল্পি খোকা  এবং প্রমি অংশগ্রহণ করে। গতবারেও প্রমি এসেছিল। হাজারো দর্শক উপস্থিত ছিল তার অধিকাংশই কিশোর তরুন। তারা শিল্পীদের সাথে গেয়েছে নেচেছে এক কথায় ইনজয় করেছে। শিল্পীরা  কোন প্রশ্ন করলে জবাব দিয়েছে। মোবাইলের টর্চ জালাতে বলতে তারা জালিয়েছে। অর্থাৎ উভয় পক্ষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠান জমজমাট হয়েছে। স্থানীয় শিল্পিরাও সুযোগ পেয়েছে।  আয়োজকদের তরফ থেকে প্রানান্ত চেষ্টা করা হয়েছে আয়োজনকে সর্বাঙ্গ সুন্দর করার জন্য। আয়োজনের যত ভাল দিক  থাকুকনা কেন ২ টি বিষয় বিরক্তির কারণ ঘটিয়েছে।
জাতীয় পর্যায়ে যারা বিভিন্ন দায়িত্ব পালন বা নের্তৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পান বা যোগ্যতা অর্জন করেন ,  সারা দেশে তাদের অনুসারী তৈরি হয়। জাতীয়ভাবে যারা তারকা খ্যাতি অর্জন করে তাদেরকে সাবধানে পা ফেলতে হয় বলে আমি মনে করি। তাদের কথাবার্তা পোষাক আশাকের ডিজাইন , চুলের ছাঁট , পছন্দ অপছন্দ  অনুসরন করতে থাকে কিশোর তরুননা। আমাদের তারকা খ্যাতি  অর্জনকরারীরা যতটুকু করে অনুসারীরা করে আরো বেশী । গোটা তরুন কিশোর সমাজ অনুসরণের প্রতিযোগিতা শুরু করে। স্বাধীনতা দিবসের ডিসপ্লের বাছাই প্রতিযোগিতায় সবদলহাট শিশু পরিবারের ছেলেরা এসেছিল বিচিত্র রকমের চুলের ছাঁট নিয়ে। ভাবতে অবাকই লাগে সম্পুর্ন সরকারি খরচে এবং ব্যবস্থাপনায় যেখানে আমাদের শিশু কিশোররা থাকে তারা এই জাতীয় বিষয় ফ্রিস্টাইল করবে তা হয়না। বিষয়টি দেখাশোনার জন্য কর্মকর্তা কর্মচারী আছেন। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক বিষয়গুলি যে শিথিল সে ধারনা প্রমানিত হয়েছে। ধারনা করা যায়  নিশ্চয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টিতে নজর দিবেন।
গত বিশ্বকাপ ফুটবলে এক যন্ত্রনাদায়ক  চুলকাটার স্টাইল  প্রচলন হয়। বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবীতে ফুটবলারদের মধ্যে এর ঢেউ বয়ে যায়। সারা মাথা সিথি কাটার মতো এ এক অনুভব করার মতো বিষয়। যাহোক এটা খুব বেশী দিন টেকেনি। বর্তমানে বিশেষ চুল কাটা চলছে। মাথার চুল হবে বটগাছের মতো। এটা দেখতে খুব খারাপ লাগে তা নয়। কিন্তু এটার মাত্রা ছাড়াতে শুরু করেছে। এটার প্রচলন করার কৃতিত্ব  জাতীয় ক্রিকেটে দলের খেলোয়ার  তাসকিন আহমদের।  যেটা এখন ঢেউ  পর্যায়ে চলে গেছে।  রাজনীতিবীদ হাফেজ্জি হুজুর বেঁেচ থাকলে খুবই প্রীত হতেন। কেননা তার মার্কা ছিল বটগাছ। তিনি একবার ফরমায়েশী নির্বাচনে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হয়েছিলেন। আর ফরমায়েশী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ার আর তেমন কোন সুযোগ নাই। সে কারণে  ওটাই তার এবং তার দলের শেষ নির্বাচন। আমাদের অনেক তরুন কিশোররা এখন তার প্রতীকি মার্কা বহন করে বেড়ায়। তাঁর দল বেঁচে থাকলে পরবর্তী নির্বাচনে হয়তো কিছু একটা হতেও পারে।  পোষাক পড়ার বিষয়ে বলা আছে মেয়েরা টাকনু ঢেকে কাপড় পড়বে , ছেলেরা টাকনুর উপর।  বিষয়টা একেবারেই বিপরীত হয়েছে। মেয়েরা একটা পোষাক পরে যার নাম পালাজ্জো। এর এই নাম কেন তার কোন কারন জানিনা। অবশ্য তাতে খরচ কমেও গিয়েছে। ওটা বানাতে কাপড়ও কম লাগে সেলাই খরচ ও কম। বয়স্ক মহিলারা পড়লে বেঢপ লাগে তা হয়তো তারা বুঝে উঠতে পারেননা। এসবের অধিকাংশের অবদান  অবশ্য জি বাংলা বা স্টার জলসা চ্যানেলের।
আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ঠাকুরগাঁয়ের কিশোর তরুনরা ছেড়া প্যান্ট পড়তে শুরু করবে বলে অভিজ্ঞজনরা আশংকা করছেন। কেননা স্বাধীনতা দিবস কনসার্টে শিল্পী খোকা যে প্যান্টটি পড়েছিল সেটা ছিল ছেঁড়া। প্রথমে ভেবেছিলাম প্যান্টটা বোধহয় বেশি ব্যবহারে ছিড়ে গেছে।  পরে মনে হলো  দুই পায়েরই হাঁটুতে এক জায়গায় একই রকমের ছেঁড়া তাতে মনো হলো ওটা তৈরি করা। বিষয়টা তাই। কেননা প্যান্টটাতো আরকোন জায়গায় ছেড়া নেই, রংও ভাল। এমনিতেতো জিনস প্যান্টের রং তুলে পড়ার সিস্টেম চালু আছে। অবাক করার বিষয়, দোকানে ভাল প্যান্টের চেয়ে ছেঁড়া প্যান্টের দাম বেশি।
সাউন্ড  ঠিক করতে ৪০ মিনিট  সময় নেওয়া হয়েছে এটা ভাল লাগেনি। হ্যালো হ্যালো , চেক , মনিটার বাড়ান , কমান , শব্দগুলো সত্যিই বিরক্তি উৎপাদন করেছে। আবার অনেকে বিরুপ মন্তব্য করতে ছাড়েননি তা হলো রাজধানীর  শিল্পীর দল যখন মফ:স্বলে আসেন তখন তারা নাকি একটু আধটু ভাবও নিয়ে থাকেন। ভাব নিলে করার কিছুতো থাকেনা কেননা  আমরাতো পারিনা সেকারণে ভাব একটু সহ্য করতেই হবে।  অনেকে আলাপচারিতায় বলেছেন ভবিষ্যতে এই জাতীয় আয়োজন করলে স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকলে তাদের জন্য আলাদা মাইক সেট রাখা এবং অতিথি শিল্পীদের জন্য সাউন্ড সহ অপরাপর ব্যবস্থা আলাদা রাখা। দর্শক শ্রোতা আসে গান শুনতে উপভোগ করতে। এমনিতেই  নির্ধারিত সময়ের পরে অনুষ্ঠান শুরু করা আমাদের ঐতিহ্যে  , আবশ্যিক কিছু বিরতি দেওয়া , স্থানীয় শিল্পীদের জন্য সময় দেওয়া এসব করতে করতে সময় চলে যায়। অতিথি শিল্পীদের  যখন সময় আসে তখন দর্শকদের বাড়ী ফেরার তাগাদা শুরু হয়।  সাধনা  করে শিল্পীদের এনে  দর্শক শ্রোতাদের তৃপ্ত করার দায়িত্ব আয়োজক এবং শিল্পীদের। বিষয়টি বিবেচনায় আনলে আখেরে ভাল হবে। ভবিষ্যতে ছেড়া কাপড় চোপড় পড়া কাউকে না আনাই ভাল।
ইদানিং কিশোর তরুনদের দাড়ি রাখার প্রবনতা শুরু হয়েছে। এটাও জি বাংলার অবদান বলে আমরা মনে করতে পারি। যারা ধর্মকর্মে  অধিক মনোনিবেশী   তাদের খুশী হওয়ার কোন কারণ নাই। কেননা সব দাড়িই  সুন্নতী দাড়ি তা ভাবার কোন কারণ নেই।  অভিভাবকরা হয়তো স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে শুরু করেছেন , তার সন্তান ধর্মমুখি হয়েছে সে বিষয়টি অনুভব করে। তাহলে বিষযটা মসজিদের নামাজের জামাতে প্রতিফলন ঘটতো।  নোবেল যখন জি বাংলাতে গান শুরু করলো তখন থেকে বিষয়টি চালু হয়ে গেল। এখন এটা ফ্যাসনে  পরিনত হয়েছে। যারা যেভাবেই হোক, ফ্যাসন করেই হোক আর ধর্মের দিকে মনোযোগি হয়েই হোক দাড়ি রাখা  তরুণরা  ধর্মীয় অনুশাসনের  দিকেও মনোযোগি হবেন সেটাই আমাদের প্রত্যাশা এবং সময়ের দাবী।

লেখক : সাবেক জেলা ক্রীড়া অফিসার ও  স্কাউটস এর পুল অব ট্রেনার, এশিয়া প্যাসিফিক রিজিওন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com