,
সংবাদ শিরোনাম :
» « ঠাকুরগাঁও জেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি মকবুল হোসেন বাবুর ইন্তেকাল» « পঞ্চগড়ের রাবার ড্যামটি অকার্যকর হওয়ায় এলাকা প্লাবিত» « পঞ্চগড়ে চা চারা চুরির অভিযোগে মামলা» « এরশাদের মৃত্যুতে রেলপথ মন্ত্রীর গভীর শোক প্রকাশ» « সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন পঞ্চগড়ে প্রবল বর্ষণ ও ঝড়ো হাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতি» « খুলনার দাকোপের লাউডোবে রুপান্তরের আয়োজন কিশোর- কিশোরীদের সু-স্বাস্থ্য সুরক্ষিত পরিবেশ প্রতিষ্ঠা বিষয়ক ক্যাম্পাইন অনুষ্ঠিত» « সারাদেশে অব্যাহত সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিবাদে সোনাগাজী রিপোর্টার্স ইউনিটির মানববন্ধন» « ঠাকুরগাঁও গড়েয়ায় জুয়ার আসর আগুনে পুড়িয়ে দিল ওসি আশিকুর রহমান» « সাংবাদিক রাসেদুল ইসলাম রাসেল নিখোঁজ» « সোনাগাজীর ছাড়াইতকান্দি হোসাইনিয়া দাখিল মাদ্রাসার নবনির্মিত ভবনের শুভ উদ্বোধন করেন- মাসুদ চৌধুরী এমপি

নববর্ষ উৎসব ও ভিন্ন ভিন্ন প্রসঙ্গ -আবু মহী উদ্দীন

 

সারাদেশের মতো ঠাকুরগাঁয়েও ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষ উদযাপিত হলো। নববর্ষের উৎসব বহু আগে থেকেই সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। ধর্মীয় যে কোন অনুষ্ঠান যেমন সেই ধর্মের অনুসারীরাই কেবল যোগদান বা পালন করতে পারে , কিন্তু নববর্ষের উৎসব সর্বজনীন। এখানে সব ধর্মের মানুষরা অংশগ্রহণ করতে পারে। পাকিস্তান আমলে এ অনুষ্ঠান আয়োজনকে বিজাতীয় বলে চালানোর অপচেষ্টা হয়েছে। রবীন্দ্র জন্মশত বার্ষিকী অনুষ্ঠান করতে সরকারি বাধা এসেছে। ছায়ানটের দৃঢ়তায় বাধার মুখে অনুষ্ঠান হলেও এর আয়োজকদের দীর্ঘদিন বহু সমস্যা মোকাবেলা করতে হয়েছে। ১৯৫৪ সালে বাঙালিরা যখন মন্ত্রীসভায় ছিলেন , মুখ্যমন্ত্রী শেরেবাংলা এ.কে ফজলুল হক ১ বৈশাখ সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছিলেন। পাকিস্তান সরকার তা বাতিল করে। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে তা আবার ছুটি হলেও ক বছর থেকে বাঙলা নববর্ষ সরকারি ভাবে পালিত হচ্ছে। এমনকী সরকার এই সর্বজনীন উৎসবকে উদযাপনের জন্য সরকারি কর্মচারীদের বৈশাখি ভাতা প্রদান করলেও অনুষ্ঠানাদিতে সরকারি কর্মচারীরা বরং ছুটি ভোগ করতেই স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে , সরকারিভাবে দিবস উদযাপনের জন্য সেই অনুষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্তরা ছাড়া আর কাউকে তেমন একটা দেখা যায়না। এবারে বেসরকারি শিক্ষদেরও মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। তাদেরকেও ভাতা দেওয়া হয়েছে। এতে হয়তোবা কয়েক কোটি টাকা লেগেছে। তবে এতে দারুন ফল হয়েছে। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এই সব শিক্ষক কর্মচারী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপর দারুন খুশী হয়েছেন। আমার জানা মতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে বৈশাখি অনুষ্ঠান , পান্তা উৎসব , আলোচনা সভা , সঙ্গীতানুষ্ঠান তো করেছেই এমনকি কোন কোন প্রতিষ্ঠানে তারা বাড়তী উৎসবের আয়োজন করেছে। এই কাজটি আরো আগে শুরু করলেই ভালো হতো। কেননা আমাদের যা কিছু সবই আসতে হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে। দেরীতে হলেও কাজটা খুবই সঠিক হয়েছে। আমাদের মনে রাখতে হবে শিক্ষকরা খুশী থাকলে তাদের খুশী প্রবাহিত হবে শিক্ষার্থীদের মাঝে , মানে প্রজন্ম খুশী।

ঠাকুরগাঁয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে রমনার বটমূলের আদলে নিক্কনের সকালের অনুষ্ঠান , উদীচীর পান্তা উৎসব এবং একুশে টিভির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী , জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় মঙ্গল শোভাযাত্রা , বাঙালি খাবার , শিশুদের বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরণ , শিল্পকলা একাডেমির সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান , মহিলা কল্যাণ ক্লাবের অনুষ্ঠান, ঘুড়ি উড়ানো প্রতিযোগিতা , জেলা ক্রীড়া সংস্থা আয়োজিত হাডুডু প্রতিযোগিতা এক কথায় সারাদিন উৎসব মুখর ছিল ঠাকুরগাঁও। এই উৎসবের রেশ ছিল পরের কয়েকদিন। দোকানীরা ঈদ/পুজার মত বেচাকেনা করেছেন। বৈশাখি উৎসবে এমপি সাহেবের অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানকে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। সরকারি কর্মসুচির বাইরে ইএসডিও এবং ইকো পাঠশালায় জাঁকজমক সহকারে নববর্ষের উৎসবের খবর পাওয়া গেছে।

বৈশাখি মেলা ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ৭দিন চলে। এই মেলা আলপনা সাহিত্য সংস্কৃতি সংসদ আয়োজন করছে প্রায় ৩ যুগ ধরে। মেলাটি পরিচ্ছন্নভাবেই পরিচালিত হয়। যতদুর জানা গেছে মাঠে মেলা হয় , মেলা কর্তৃপক্ষ আয় করে কিন্তু মাঠের মালিককে কোন ফি দেয়না। জায়গার মালিক বড্ড গরীব। এখানে আরও অনেক মেলা হয়। মালিকপক্ষের দৈন্যতা ঘুচাতে মাঠের কিছু ফি নির্ধারণ করা ভাল। বৈশাখি মেলার যা ইতিহাস ঐতিহ্য তাতে বৈশাখি মেলায় বৈশাখি পণ্যই থাকা দরকার। বানিজ্যিক পণ্যের জন্য তো বানিজ্য মেলা আছে উদারহণ হিসাবে বলা যায় বৈশাখের গরমে কম্বলের দোকান না থাকলেই ভালো।

গত কয়েক বছর পয়লা বৈশাখে ঘুড়ি উড়ানো প্রতিযোগিতা হয়। আসলে ঘুড়ি উড়ানোর বিষয়টি গ্রামের ছেলেদের। শহরে ঘুড়ি উড়ানোর মতো জায়গা আমরা রাখিনি। শহরের শিক্ষার্থীদের পিঠে বইএর বস্তা আর কোচিং সেন্টারে যাতায়ত। এর মধ্যে শিক্ষর্থীরা আছে। তবে ঘুড়ি উড়ানোর বিষয়টি আগে ভাগে প্রচার করলে আরো বেশী অংশগ্রহণকারী হতো। প্রতিবারই অনেক আগে থেকে প্রচারের দাবী করলেও পয়লা বৈশাখের আগের দিন তথ্য বিভাগের মাইকে শুধুমাত্র মেইন রোডে প্রচার হয় তথ্যের মাইকতো সব রাস্তা বা অলিগলিতে যেতে পারেনা। তথ্যের মাইক তো অভিজাত মাইক তাদেরতো তো চৌরাস্তা আর ডি.সি অফিসের বাইরে যাওয়া প্রেষ্টিজে বাধে।

দেশে প্রথমবারের মতো ১৬-২০ এপ্রিল স্বাস্থ্য সেবা সপ্তাহ পালিত হলো। স্বাস্থ্য সেবা সপ্তাহ মানে এই নয় যে কেবলমাত্র এই সপ্তাহেই সেবা পাওয়া যাবে। এই সপ্তাহে সরকারের স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ে জনগণকে অবহিত করা হবে। সেবাকে আরো আধুনিকায়নের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে। স্বাস্থ্য সেবাতো বছরের সব দিনই দরকার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। এই সব নির্দেশনা দেশের সকল জেলা প্রশাসন ও হাসপাতালে মানুষ শুনেছে। তবে সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজনে বড্ড অসহায় হয়ে পড়েছিল। ব্যানারে যে সকল গণ্যমান্য ব্যাক্তিদের আসার কথা ছিল তার মধ্যে একমাত্র আয়োজক সিভিল সার্জন ছাড়া আর কাউকে পাওয়া যায়নি। চমৎকার আয়োজনটি মাঠেই মারা পড়েছে। শুরুতে যারা অনুষ্ঠান দেখতে এসেছিল তাদের কেউ আর ছিলনা। শেষে কেবলমাত্র নার্সিং ইনষ্টিটিউটের কিছু ছাত্রী ছিল যারা স্বাস্থ্য বিভাগীয় সকল আয়োজনে দর্শকের অভাব পুরণে বিশেষ ভুমিকা রাখে। তবু অনুষ্ঠানস্থল থেকে নির্ধারিত শিল্পীর অনুপস্থিতিতে জনা দুয়েক সাধারণ মানের শ্রোতাকে মঞ্চে নিয়ে আলোচনা পর্ব শেষ করা হয়। অতিথি দর্শকদের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সিভিল সার্জন ডা. আবু মো: খয়রুল কবির প্রকাশ্যে ৪টি প্রতিশ্রæতি দেন। ক) হাসপাতালের পাশের ড্রেনটি সেবা সপ্তাহ চলাকালীন অর্থাৎ ২০ এপ্রিলের মধ্যে পরিস্কার করে দুর্গন্ধমুক্ত করা হবে। এ ব্যাপারে তিনি তাৎক্ষনিকভাবে পৌর মেয়র মির্জা ফয়সল আমিনের নিকট থেকে প্রতিশ্রæতিও আদায় করেন। খ) গেটের দোকানগুলি সরানো হবে। সজ্জন সিভিল সার্জন আগ পাছ না ভেবেই স্বভাবসুলভ ভাবেই তিনি তাৎক্ষনিক প্রতিশ্রæতি দিয়েছেন। এই প্রতিশ্রæতিটি তিনি হয়তো হাততালি পাবার জন্যই দিয়েছেন। কারণ এই দোকানগুলির শেকড় অনেক গভীরে। এম পি সাহেব মন্ত্রী থাকার সময় থেকে প্রতি মাসে স্বাস্থ্য কমিটির সভা করেন। অনেকবারই সিদ্ধান্ত হয়েছে দোকান তোলার। বাস্তবতা হচ্ছে দোকান ওঠেনি। আমাদের ধারনা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আবার যখন ঠাকুরগাঁওয়ে আসবেন তখন দোকানগুলি ৩ দিনের জন্য উঠবে। তবুও আমরা আশাবাদী। গ) হাসপাতালের রোগীর এটেন্ডেন্ট নিয়ন্ত্রন করার কার্যকরী ব্যবস্থা নিবেন। ইতোপুর্বে ২/১ বার চেষ্টা করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছার কোন ঘাটতি নাই। তবে রোগীর এটেন্ডেন্টদের অসচেতনতার কারনেই তা বন্ধ বা নিয়ন্ত্রন করা যাচ্ছেনা। ঘ) আউটডোরে অপেক্ষমান রোগীদের বসার জায়গা বাড়ানো। এটা হয়তো তিনি কিছুটা করতে পারবেন। অবশ্য নুতন হাসপাতাল বিল্ডিংয়ে গেলে হয়তো এই সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে। ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের অনেক সমস্যা থাকলেও আশে পাশের জেলাগুলোর চেয়ে এখানকার ব্যবস্থাপনা বেশ ভালো। সীমাবদ্ধতার মধ্যেও স্বাস্থ্য সেবায় এই জেলার ইর্ষনীয় সাফল্য রয়েছে। আর ১টি বিষয় এই অনুষ্ঠানে না হলেও অন্য অনুষ্ঠানে বলা হয়েছে। তা হলো বেসরকারি ক্লিনিকগুলির মান উন্নয়ন। অনুষ্ঠানে হঠাৎ করেই ক্লিনিক মালিক সমিতির সভাপতি মহোদয় বক্তব্য রাখলেন। অবাক করার বিষয় তিনিও ক্লিনিকের মান উন্নয়নের দাবী জানালেন। বিষয়টি সোনায় সোহাগা হয়ে গেল। তিনি সরকারি দলেরও ডাক সাইটে নেতা। এবার আশা করা যায় সিভিল সার্জন বেসরকারি ক্লিনিকের মান উন্নয়নে সচেষ্ট হবেন। বেসরকারি হাসপাতাল ,ক্লিনিকে যেহেতু আমাদের যেতেই হবে সুতরাং ক্লিনিকগুলি ভালো করা হোক। ক্লিনিক মালিক সমিতি দয়া করে ইচ্ছা করলেই আমাদের জন্য যথেষ্ট। আর সিভিল সার্জন যা করতে পারেন তা হলো যে কোন ক্লিনিক পরিদর্শন করে সেই ক্লিনিকের মান উন্নয়নে কি কি পরামর্শ দেওয়া হলো এবং কতদিনের মধ্যে তা করতে হবে এই সব বিষয় প্যানা ব্যানারে লিখে টাঙ্গিয়ে রাখতে হবে। পরের পরিদর্শনে কতটুকু অগ্রগতি হলো বোঝা সহজ হবে। গ্রাহকও বুঝতে পারবে ক্লিনিকটির কি কি ঘাটতি আছে। মালিকও বুঝতে পারবে তার কি কি করতে হবে। তাহলে ক্লিনিকের বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ বন্ধ হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com