,
সংবাদ শিরোনাম :
» « ঠাকুরগাঁও জেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি মকবুল হোসেন বাবুর ইন্তেকাল» « পঞ্চগড়ের রাবার ড্যামটি অকার্যকর হওয়ায় এলাকা প্লাবিত» « পঞ্চগড়ে চা চারা চুরির অভিযোগে মামলা» « এরশাদের মৃত্যুতে রেলপথ মন্ত্রীর গভীর শোক প্রকাশ» « সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন পঞ্চগড়ে প্রবল বর্ষণ ও ঝড়ো হাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতি» « খুলনার দাকোপের লাউডোবে রুপান্তরের আয়োজন কিশোর- কিশোরীদের সু-স্বাস্থ্য সুরক্ষিত পরিবেশ প্রতিষ্ঠা বিষয়ক ক্যাম্পাইন অনুষ্ঠিত» « সারাদেশে অব্যাহত সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিবাদে সোনাগাজী রিপোর্টার্স ইউনিটির মানববন্ধন» « ঠাকুরগাঁও গড়েয়ায় জুয়ার আসর আগুনে পুড়িয়ে দিল ওসি আশিকুর রহমান» « সাংবাদিক রাসেদুল ইসলাম রাসেল নিখোঁজ» « সোনাগাজীর ছাড়াইতকান্দি হোসাইনিয়া দাখিল মাদ্রাসার নবনির্মিত ভবনের শুভ উদ্বোধন করেন- মাসুদ চৌধুরী এমপি

মুজিব নগর দিবসের ভাবনা ও প্রজন্ম চিন্তা -আবু মহী উদ্দীন

১৭ এপ্রিল ২০১৯ ঠাকুরগাঁও ডিসি হলঘরে মুজিবনগর দিবসের আলোচনা সভা ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। এম.পি সাহেব আলোচনায় অংশ নেন। এমপি সাহেব বড় আশা নিয়ে এসেছিলেন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মুজিবনগর দিবস সম্পর্কে শুনবেন। তাঁকে অনেকটা হতাশই হতে হয়েছে। স্কুলের সিলেবাসে না থাকলে ওদের কি দোষ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা , মন্ত্রী পরিষদ গঠন , শপথ গ্রহণ এবং মুক্তিযুদ্ধ একে অপরের সমার্থক। খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। হলে কি হবে। মুজিবনগর দিবসতো দুরের কথা , শেখ মুজিবুর রহমান নামে কেউ বাংলাদেশে ছিলেন বা  ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের আগে দেশে স্বায়ত্বশাসন বা স্বাধীনতার কোন আন্দোলন সংগ্রাম হয়েছে , আমাদের প্রজন্ম তা জানতে পারেনি। ২১ বছরে একটা প্রজন্ম স্বাধীনতা সংগ্রাম , মুক্তিযুদ্ধ ,  বঙ্গবন্ধু , আওয়ামী লীগের ভুমিকা জানতে পারেনি ,  ইতিহাসের একটা শুন্যতা নিয়ে বেড়ে উঠেছে। তবে সুবিধা হলো ইতিহাস কেউ রচনা করতে পারেনা , ইতিহাস রচিত হয়।   শেখ মুজিবকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার জন্য কি কসরতই না করা হয়েছে। আজ ভাবতে সত্যিই অবাক লাগে , ৯১-৯৫ সালে ১৫ ডিসেম্বর রাতে টেলিভিশনে রাত ন টায় ড্রামা সিরিয়াল ‘ওসিন’ প্রচারিত হতো। অথচ পরের দিন মহান বিজয় দিবস। যে বিজয়- মুক্তিযুদ্ধ করে লাখো বাঙ্গালির রক্তের মুল্যে অর্জন করতে হয়েছে, জাতিকে মেধাশুন্য করার জন্য বুদ্ধিজীবি হত্যাকান্ড হয়েছে, মা বোনদের সম্ভ্রমহানি ঘটেছে। গোটা বাংলাদেশটাই যেখানে বলতে গেলে একটা বধ্যভুমি। সেই দেশে স্বাধীনতা সংগ্রামের , মুক্তিযুদ্ধের কোন ঘটনা , মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্ব গাথা , কোন ইতিহাস আলোচনা করা হতোনা। মুজিব নগর সরকার বিশ্ববাসীকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধ সম্পর্কে জানান দিয়েছে। দীর্ঘ নয় মাস মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেছে শেখ মুজিবের নামে , বেসামরিক সরকার পরিচালনা করেছে ,  বিদেশী সরকারের সাথে কুটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে। যে মুক্তিযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌছাতে বাঙ্গালি জাতিকে পাকিস্তানি শাষন ,শোষনের বিরুদ্ধে ২৩ বছর আন্দোলন  সংগ্রাম করতে হয়েছে , তার কোন ইতিহাস উচ্চারিত ছিলনা। বর্তমানে মুজিবনগর দিবস সরকারিভাবে পালন করা হয়। তবে একটা বিষয় লক্ষনীয় যে আওয়ামী লীগ ছাড়া আর তেন কাউকে  মুজিবনগর দিবস পালন করতে দেখা যায়না। । ভাবতে কেমন লাগে। স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক হতে চাইলে মুজিবনগর দিবসকে অস্বীকার করা যায় কিভাবে? মুজিব নগর তো আওয়ামী লীগের একার  নয় ,বঙ্গবন্ধু , বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং মুজিব  নগর একে অপরের পরিপুরক এবং সমার্থক। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের চুড়ান্ত পরিণতি জানতে মুজিবনগর সম্পর্কে জানতে হবে। মুজিব নগরের অস্তিত্ব না জানলে স্বাধীনতার ইতিহাস  কোনভাইে পুর্ণতা পাবেনা। যে মুজিব নগর সরকার দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম পরিচালনা করেছে , যে জন্য আজ স্বাধীন দেশে সরকারি কর্মকর্তারা স্বাধীনতার স্বাদ ভোগ করছেন , সরকারিভাবে মুজিবনগর দিবস উদযাপিত হচ্ছে বটে কিন্তু সরকারি কর্মচারীদের খুব একটা অনুষ্ঠানস্থলে দেখা যায়না। অনুষ্টানের প্রয়োজনে যাদের থাকা দরকার তারা ছাড়া আর তেমন কাউকে দেখা যায়না। বিষয়টি ভেবে দেখার মতো। ওয়াজ নসিহতে যে কাজ হবেনা তা বোঝা গেছে। আর জোর করে আচার অনুষ্ঠানে উপস্থিত করে তেমন কোন উপকারও পাওয়া যায়না। হয়তো খোজ নিলে দেখা যাবে প্রায়ই উর্ধতন কর্মকর্তারা  ভ্যাকুয়াম টাইমে নিয়োগপ্রাপ্ত। তারাতো অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে শরম পান। তাদের শরম ভাঙ্গানোর সরকারি ব্যবস্থাই থাকা দরকার।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একাত্তরের ১৭ এপ্রিল এক অবিস্মরণীয় দিন। ইতিহাসের পাতায় চির ভাস্বর হয়ে রয়েছে এই দিনটি। বাঙ্গালি জাতির আলোকবর্তিকা  হিসাবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের  প্রথম শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় এই দিনে। এই সরকার গৌরবোজ্জল মুক্তিযুদ্ধকালীন নয় মাস সকল প্রকার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে । পরিচালনা করেছে দীর্ঘ নয়মাসের বীরত্বপুর্ণ সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। নিয়েছে দেশ গঠন ও উন্নয়নের জন্য বিশেষ ভুমিকা।  বিপুল অস্ত্রভান্ডারে সজ্জিত দখলদার পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রশিক্ষণদান , অস্ত্র সংগ্রহ , কুটনৈতিক তৎপরতা বিষয়ক কার্যক্রম সফলতার সঙ্গে পালন করেছে । ইতিহাস তার স্বাক্ষী ,  ১৭৫৭ সালের ২৩ রজুন পলাশীর আ¤্রকাননে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মাধ্যমে বাংলা , বিহার , উড়িষ্যার স্বাধীনতার যে সুর্য অস্তমিত হয়েছিল সেই পলাশীর আ¤্রকাননের ২৩ মাইল দুরে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের ভবেরপাড়ার গ্রামে বাঙালির হাজার বছরের লালিত স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাদেশশের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিমূল রচিত হয়। সেই সঙ্গে রচিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশের নুতন এক উজ্জল ইতিহাস। নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বিশ্বের মানচিত্রে স্থান করে নেয় স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ । জাতি ১৭ এপ্রিলকে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস হিসাবে পালণ করছে। এই মুজিবনগর স্বাধীন বাংলাদেশের স্বর্ণদুয়ার। স্বাধীনতার কথা উঠলে এই স্বর্ণদুয়ারের অস্তিত্ব মানতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে হলে মুজিবনগরের পুরো এলাকা ঘুরে দেখতে হবে। দেখলে মনে হবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমস্ত ইতিহাস বুকে ধারণ করে আছে মুজিবনগর। সেই সঙ্গে বলতে হবে বাংলা , বাঙ্গালি , মুক্তিযুদ্ধ ও মুজিবনগর যেন অভিন্ন নাম বা সমার্থক শব্দ।
মুজিব নগর দিবসের তাৎপর্য সম্পর্কে আমাদের প্রজন্মকে গভীরভাবে জানাতে হবে এবং উপলব্ধি করাতে হবে। কিন্তু কিভাবে করা হবে সেটাই গুরুত্বপুর্ন বিষয়। কেবল পরামর্শ দিলেই সবাই পড়তে বা জানতে শুরু করবে এমনটা নয়। এটা করার জন্য কৌশল প্রনয়ন করতে হবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুজিব নগর  দিবস বা এর তাৎপর্য জানাতে যা করা যেতে পারে তা হলো ঃ মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে বেশ সময় হাতে নিয়ে সারা জেলায় প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। এই আয়োজনে প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবেন। এদের মধ্যে থেকে বিজয়ীদের পুরস্কার দিবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। স্কুল পর্যায়ে বিজয়ীদের নিয়ে ২য় পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় উপজেলা পরিষদ পুরস্কার দিবে। উপজেলা পর্যায়ের বিজয়ীদের নিয়ে ৩য় পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় জেলা পরিষদ পুরস্কার দিবে। রচনা প্রতিযোগিতা থেকে মেধাক্রম অনুসারে ১০ জন বাছাই করা হবে। একইভাবে  আয়োজন করা হবে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুজিবনগর বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা । কুইজ প্রতিযোগিতা থেকে ১০ জনকে বাছাই করা হবে। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী থেকে আয়োজন করা  হবে আলোচনা সভা । আলোচনা সভা থেকে সেরা ১০ জন আলোচক বাছাই করা হবে। এই সব প্রতিযোগিতা থেকে মোট ৩০ জন শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক বাছাই করা হবে ৫ জন। প্রতিনিধি বাছাই করা হবে এম পি সাহেবের প্রতিনিধি ১ , জেলা পরিষদ প্রতিনিধি ১ , সরকারি প্রতিনিধি ১ বঙ্গবন্ধু পরিষদ ১ মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ১ জন মোট ৪০ জনের ১টি দল মুজিব নগর ভ্রমনের সুযোগ পাবে। এই ভ্রমনের অর্থায়ন করবেন মাননীয় সংসদ সদস্য বা জেলা পরিষদ অথবা উভয়ে মিলে। এভাবে প্রতি বছর  প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বাছাই করা একটি শিক্ষার্থী দল মুজিবনগর ভ্রমনের সুযোগ পাবে। প্রতি বছর ্আলাদা আলাদা  শিক্ষার্থী সুযোগ পাবে। বঙ্গবন্ধু পরিষদ বা এই জাতীয় প্রতিষ্ঠানকে বাছাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। যারা নিরপেক্ষভাবে প্রতিযোগি বাছাই করবে। এভাবে প্রতিবছর বাছাই করা শিক্ষার্থীদের মুজিবনগর ভ্রমনের সুযোগ দিলে গোটা জেলার শিক্ষার্থীরা  দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম সহ মুক্তিযুদ্ধ , বঙ্গবন্ধু ইত্যাদি  বিষয়ের সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হবে মুজিবনগর ভ্রমনে যাওয়ার সুযোগ করে নেওয়ার অছিলায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com